
বরিশাল সদর, বরিশাল | নিজস্ব প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বরিশাল মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আলোচিত আসামি মো. শাখাওয়াত হোসেন মনির সিকদার জামিন পেয়েছেন। এই ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় ২৩ আগস্ট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের মতো মনির সিকদারও বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মনির সিকদার ১৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তিনি কখনো বিএনপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু বরিশাল মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে তার নামে জাতীয়তাবাদী বাস্তহারা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। এতে করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক মহলে।
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, “মনির সিকদার আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। তাকে আমাদের কর্মী বলা এবং প্রত্যয়ন দেওয়া সম্পূর্ণভাবে বিভ্রান্তিকর।”
এদিকে ৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের উপস্থিতিতে মনির সিকদার জামিন পান। বিচারক মন্তব্য করেন, “এ ধরনের মামলায় বাদীর উপস্থিতি ও অনাপত্তি জানানো অনুচিত।”
চরকাউয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও জানিয়েছেন, মনিরের বিএনপির সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং তিনি সাবেক এমপি শামীমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বিতর্কিত আর্থিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, “আসামিকে স্থানীয় নেতারা বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় আমরা জামিন শুনানিতে অংশ নিয়েছি। তবে আদালতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
এই ঘটনায় বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিচয়কে ঘিরে এমন জটিলতা বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।

