
কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ), শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বেজপাড়া গ্রামে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে মো. তুষার খান (৩০) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই গ্রামের সুলতান খানের ছেলে।
পরিবারের বরাতে জানা যায়, বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় তুষার নিজ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের বেড়া ভেঙে তারা তুষারকে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে কাশিয়ানী থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে তুষার লিখেছেন:
“আমার মুক্তার কোনো দোষ নেই, সব দোষ আমার। তাই ওকে কেউ দোষ দিও না। মা, এই ২০০০ টাকা দিয়ে আমার কাফনের কাপড় কিনে দিও। আমি নিজেই হাত-পা বেঁধেছি, যাতে উঠতে না পারি। মুক্তা, তুমি আমার জান।”
নিহতের মা কুলসুম বেগম বলেন, “ছেলে তুষার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসত। কিন্তু মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। বুধবার সন্ধ্যায় সে বাড়িতে ছিল, দরজা বন্ধ করে ঘরে ঢুকেছিল। পরে আর বের হয়নি।”
নিহতের বোন খুশি খানম জানান, “তুষারের স্ত্রী মুক্তা তার ভাইদের কাছে টাকা চাইতেন। তুষার তাদের জন্য ঋণ করে কিছু টাকা দিয়েছিল। এই নিয়ে তাদের মাঝে মাঝে ঝগড়া হতো। শেষবার ঝগড়ার পর মুক্তা ঢাকা চলে যায়। হয়তো এই অভিমান থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে।”
পরিবারের দাবি, তুষার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসতেন। তবে স্ত্রীর আচরণে এবং তার মোবাইল ফোনে কথোপকথনের কিছু বিষয় নিয়েও তুষার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।
কাশিয়ানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, “মৃতের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, প্রতিবেদন পেলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

