
আনিসুর রহমান, সোনারগাঁ নিজস্ব প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন এলাকাধীন মেঘনা শিল্পনগরীতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অবৈধ চুনা কারখানা। প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার পরও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানাগুলো চালু করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা শিল্পনগরীর ইসলামপুর এলাকায় মৃত ওসমানের বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চুনা কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। একইভাবে গঙ্গানগর এলাকার করোনা গ্রুপের মাঠেও গড়ে উঠেছে আরেকটি অবৈধ চুনা কারখানা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে এসব কারখানার স্থাপনা ভেঙে দেয় এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার নতুন স্থাপনা তৈরি করে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানার কার্যক্রম শুরু করা হয়। তাদের দাবি, তিতাস গ্যাস-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এভাবে বারবার কারখানা চালু হওয়া সম্ভব নয়।
এলাকাবাসী আরও জানান, এসব চুনা কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে আশপাশের বসতবাড়িতে বসবাসরত মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন শ্বাসজনিত সমস্যার প্রকোপ বাড়ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মেঘনা শিল্পনগরীর অদূরেই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর জোনাল অফিস থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে এ ধরনের কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় এসব অবৈধ কারখানা ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে।
এর আগে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে চুনা ও ঢালাই কারখানা পরিচালনার অভিযোগে প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে কারখানা উচ্ছেদ এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও কোনো ধরনের অর্থদণ্ড বা কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ চুনা কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

