বাড়িরাজশাহী বিভাগনওগাঁ জেলাশোকজের পরও পাঁড়ইল ভূমি অফিসে লতিফ বহাল! অভিযোগের তদন্ত থামল কোথায়—নেপথ্যে...

শোকজের পরও পাঁড়ইল ভূমি অফিসে লতিফ বহাল! অভিযোগের তদন্ত থামল কোথায়—নেপথ্যে কার প্রভাব?

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য ও সরকারি কম্পিউটার ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আব্দুল লতিফকে শোকজ করা হয়েছিল। পূর্বপ্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল সোহেল ও রানা নামে দুই বহিরাগত ব্যক্তির ভূমি অফিসে নিয়মিত অবস্থান এবং সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ভূমিসেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে যোগাযোগের বিষয়টি। এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে সোহেল ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন—এমন অভিযোগও প্রকাশিত হয়। তবে অভিযোগটির সত্যতা এখনো প্রশাসনিক তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

প্রশ্ন হলো—যে অভিযোগের পর শোকজ হলো, সেই অভিযোগের পরিণতি কী? শোকজের জবাব কী দেওয়া হয়েছে, তদন্ত হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে তদন্ত প্রতিবেদনে কী উঠে এসেছে—এসব বিষয়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। অথচ আব্দুল লতিফ এখনো একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

পূর্বের প্রতিবেদনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিমের বক্তব্যে বলা হয়েছিল, সরকারি চেয়ারে বেসরকারি ব্যক্তি বসার সুযোগ নেই এবং সরকারি অফিসিয়াল কম্পিউটারও সাধারণ ব্যক্তির ব্যবহারের সুযোগ নেই।

এ অবস্থায় প্রশ্ন আরও জোরালো—শোকজ কি কেবল কাগজে-কলমে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা, নাকি এর পরিণতিতে বাস্তব কোনো জবাবদিহি হয়েছে? অভিযোগের তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? আর তদন্ত শেষ না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বহাল থাকার কারণই বা কী?

ভূমি অফিস সাধারণ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা কেন্দ্রগুলোর একটি। নিয়ামতপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি সিটিজেন চার্টারেও নির্ধারিত সেবা, ফি ও অভিযোগের প্রতিকার ব্যবস্থার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

তাই বিষয়টি এখন কোনো ব্যক্তি বনাম ব্যক্তির বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সরকারি ভূমিসেবার স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রশ্ন।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায়, আর অভিযোগ অসত্য হলে তদন্ত করে তা পরিষ্কার করা হচ্ছে না কেন?

জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি—পূর্বের অভিযোগ, শোকজের কারণ, জবাব, তদন্তের অগ্রগতি ও বর্তমান প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জনসমক্ষে আনা হোক। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তিনি দোষী নন; আবার অভিযোগ উঠলেই তা ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়। সত্য উদঘাটন ও বিধিসম্মত ব্যবস্থা—দুটির কোনোটিরই বিকল্প নেই।

এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পূর্বপ্রকাশিত সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্যের ভিত্তিতেই এর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments