
মোঃ হোসেন আলী বিশ্বাস, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) বিশেষ প্রতিনিধি।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া ইউনিয়নের জামিরুল ইসলাম এবং রাকিবুল হাসান খান দিপুর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামিরুলের সমর্থক কালাম ও সালামের বাড়িতে প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষের শুরু হয়। এর জেরে জামিরুলের সমর্থক নাসির মেম্বারের লোকজন পাল্টা হামলা চালালে দিপুর সমর্থক আকলিমা নামে এক নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশের ওপর হামলা ও বর্তমান পরিস্থিতি দুপুরে পুলিশ বারইহুদা গ্রামে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঘটনার সাথে জড়িত নাসির মেম্বারকে আটক করতে গেলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের পুলিশ সদস্য সোহেল রানা আহত হন। বর্তমানে আহতরা শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম: “সকালে দিপুর লোকজন আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের আটক না করে উল্টো আমার লোকজনকে ধরতে গেলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পুলিশের মারধরে আমার কর্মী কবিরও আহত হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান খান দিপু: আমি কোনো দলাদলির মধ্যে নেই। যারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে এবং পুলিশের ওপর হামলা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

