বাড়িবাংলাদেশেচট্টগ্রাম বিভাগরাঙ্গামাটির মাইনীমুখ বাজারে পাহাড়ি গরুর কদর বেড়েছে।  

রাঙ্গামাটির মাইনীমুখ বাজারে পাহাড়ি গরুর কদর বেড়েছে।  

মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু(রাঙ্গামাটি)।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রত্যান্ত উপজেলা লংগদুতে সর্ববৃহৎ পশুর হাট মাইনী মুখ বাজার। পাহাড়ি ও দেশি গরুর জন্য এই বাজারের পরিচিতি রয়েছে সারাদেশেই। মাইনী মুখ বাজারের ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন গরুর বাজার মাঠে সপ্তাহের প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক পশুর হাট বসে থাকে। তবে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় পাহাড়ি বাঙ্গালী বিক্রেতারা শত শত দেশি ও বিভিন্ন প্রকার গরু এনেছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত হতে।

গতকাল গরুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি উপলক্ষে লংগদু উপজেলার স্থানীয় ক্রেতাদের নিকট ছোট গরুই বেশি পছন্দ। বিক্রেতা এবং বেশ কিছু ক্রেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে জানা যায়, এবার কোরবানিতে দেশীয় পাহাড়ী গরুর কদর বেশী। তাই পাহাড়ি গরুর দাম এবার একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে কয়েকজন ক্রেতা জানান।

লংগদু উপজেলার এই পশুর হাটে পার্বত্যঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা হতে পাহাড়ী বিভিন্ন প্রজাতির গরু-ছাগল আনা হয় বিক্রয়ের জন্য। কোরবানির হাটে গিয়ে দেখা যায় গরু ব্যাপারিরা পাশ্ববর্তী উপজেলা বাঘাইছড়ি, বরকল, দীঘিনালা সহ লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হতে ইঞ্জিন চালিত নৌকাবোট ও জীপগাড়ি ভাড়া করে কোরবানি পশু নিয়ে আসছেন। এসবব পশুর দরদাম ও হাঁকা হচ্ছে অনেক বেশি।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী শাহ-আলম কসাই জানান, পাহাড়ি পশুগুলো পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঘাস, লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। এসব গরুর স্বাস্থ্যের জন্য কোন প্রকার বাহিরের ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়না। তাই পাহাড়ের গরু দেখতে সুন্দর, দামও একটু বেশি।

মাইনীমুখ বাজারের পশুর হাটে রাঙ্গাগামাটি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু ক্রয় করতে আসা কয়েকজন ব্যাবসায়ী জানান, বাজারে আজ যে পরিমাণ গরু আনা হয়েছে, তার বেশির ভাগ অংশই অনেক ভালো। এ সকল গরু প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো ঘাস ও লতাপাতা ছাড়া কিছুই খায়না। শনিবারের হাটে কয়েক কোটি টাকার গরু ক্রয়-বিক্রয় করা হয়েছে। তবে দাম কিছুটা বেশি হলেও ধারনা করা হচ্ছে ঈদের ২/৩ দিন আগে দাম হয়তো কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাইনী মুখ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন কমল জানান, আমার ইউনিয়নে একটি মাত্র পশুর হাট। এইখানে লংগদু সহ আশেপাশের অনেক উপজেলা হতে ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন। আজকের বাজারে অনেক গরু এসেছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা একটি গরুর দাম ১৪ লক্ষ টাকা হাঁকান।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারুনর রশীদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতা বিক্রেতা মুখর ছিলো মাইনীমুখ বাজার। তাই লংগদু থানা পুলিশের বিশেষ টিম অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিলো।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments