বাড়িঢাকা বিভাগটাঙ্গাইল জেলামধুপুরে চাঁদপুর (বশিউক) এর জমি উদ্ধারে অভিযান: দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মধুপুরে চাঁদপুর (বশিউক) এর জমি উদ্ধারে অভিযান: দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, 
টাঙ্গাইলের মধুপুরে, বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থা তথা  (বশিউক) চাঁদপুর রাবার বাগানের আওতাধীন বন বিভাগের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কুড়াগাছা ইউনিয়নের ধরাটি, কালাপাহাড় এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় আদিবাসী রমেন মাংসানের বসতভিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী, ফলজ বাগান ও নির্মাণাধীন ঘরের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী বন কর্মকর্তারা জানান, রমেন মাংসান দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে বাগান কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এবং কর্মকর্তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কোনো আগাম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে তারা জানান, কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি, তবে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছিল।
এ সময় আদিবাসী- রমেন মাংসান অভিযোগ তুলে বলেন : আমি রমেন মাংসান (৬৫) পিতা মৃত জুগেশ মাংসান সাং কালাপাহাড়, পূর্বধরাটি আমি পেশায় একজন দিনমজুর আমি আমার পরিবার নিয়ে বিগত ৫ বছর যাবত এই জমিতে  বসবাস করে আসছিলাম আমার পাঁচ ছেলে চার মেয়ের একটি বড় পরিবার হওয়ায় বসবাস করার যথেষ্ট জায়গা না থাকায় এই জমিটি বন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমেই ব্যবহার করে আসছিলাম । আমি পাঁচ বছর আগে এই জমিতে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকার গাছ রোপন করেছিলাম এবং সবজি বাগান করেছিলাম বর্তমানে তার বাজার মূল্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। আমার ৫ ছেলে ৪ মেয়ের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমানোর ঘর না থাকায় আমি অনেক কষ্টে সিমেন্টের খুঁটি ঘর তৈরির কাঠ ও ঘরভিটির মাটি কেটে ঘর তৈরীর কাজ করতেছিলাম। আজ হঠাৎ রাবার বাগানের কর্তৃপক্ষরা ও অস্ত্রধারী আনসার সদস্য নিয়ে আমাদের বসতবাড়ির ওপর অভিযান চালায়। তারা সবকিছু নষ্ট করে দিয়ে গেল। তারা আমাদের পূর্বে কোন নোটিশ ছাড়াই আজ অতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান চালায় আমাদের কোন প্রকার সুযোগ না দিয়েই সব নষ্ট করে গেল আমরা এর যথাযথ ক্ষতিপূরণ সহ বিচার চাই।
চাঁদপুর রাবার বাগান বশিউকের ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান জানান, বনের জায়গা ও সম্পদ জবরদখল রোধে বাংলাদেশ বন বিভাগের নীতিমালা অনুসারেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “বনের জায়গা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। উচ্ছেদ অভিযানে দখলদারদের কিছুটা ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। ঘর নির্মাণের চেষ্টা করায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।”
স্থানীয় আদিবাসীদের অভিযোগ , মধুপুর বন ও রাবার বাগান এলাকায় শত শত একর জমি প্রভাবশালীরা জবরদখল করে রাখলেও তাদের বিরুদ্ধে বশিউক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। অথচ একজন ভূমিহীন দরিদ্র আদিবাসীর ওপর এই অভিযানকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। আশির দশকে গজারী বন কেটে করা এই রাবার বাগান বর্তমানে অলাভজনক হয়ে পড়ায় সেখানে অনেক জায়গায় অবৈধভাবে কলা ও আনারস চাষ হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
​মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো প্রকার আইনি নোটিশ ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই ঘটনা মধুপুরের আদিবাসী জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments