
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ধোয়ানদী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাসকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ৩টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুশীল চন্দ্র দাস বাজিতপুর কেন্দ্রীয় হরিসভার সহ-সভাপতি, দিলালপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি, গোপিনাথপুর শ্মশান কমিটির সভাপতি ও বাজিতপুর চেম্বারস অব কমার্সের সদস্য।
এ ব্যাপারে আজ সোমবার (১৪ এপ্রিল) বাজিতপুর পৌর শহরের কেন্দ্রীয় হরিসভায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সুশীল চন্দ্র দাস।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুশীল চন্দ্র দাস বলেন, ‘বাজিতপুর থানাধীন মাইজচর জলমহল আমরা মাইজচর ধোয়ানদী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে লিজ আনি। আমি উক্ত জলমহল লিজ আনার পর হইতে বাজিতপুর থানার দিলালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, মোঃ খাটেরা গ্রামের মাহাবুব, মোঃ বাছির মিয়া, পারভেজ মিয়া, হেলাল মিয়া, গৌরনগর গ্রামের নুনছু মিয়া, মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম, আরমান মিয়া, পাঠানহাটি গ্রামের উজ্জল মিয়াসহ আরো অজ্ঞাতনামা ১০/১২জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আমাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘১৩/০৪/২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের সময় বাজিতপুর থানাধীন উদাতিয়ারকান্দি গ্রামের রঞ্জিত এর চা দোকানের ভিতর আমি চা পান করার সময় উপরে বর্ণিত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়া বে-আইনী জনতাবদ্ধে অটো গাড়ী দিয়া আসিয়া আমাকে ঘেরাও করিয়া তারা আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি বাইরাইয়া নীলা ফুলা জখম করে। পরে আমাকে জোরপূর্বক অটোগাড়ীতে উঠাইয়া বাজিতপুর থানাধীন বড়খাটুলা গ্রামের আসাদ ডাক্তারে পতিত বাড়ীতে নিয়া যায়, সেখানেও আমার শরীরের বিভিন্ন আমাকে মারপিট করে।’
তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিতে বলিলে আমি রাজী না হওয়ায় বাছির, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, দিলালপুর ইউনিয়ন, আমার মাথায় পিস্তল ধরে এবং মাহাবুবের হাতে থাকা পিস্তল দিয়া গুলি করিবে বলে হত্যা করার হুমকি দেয় আমাকে। হেলাল ও নুরুল ইসলাম আমার গলায় দা ধরিয়া রাখে। পারভেজ আমাকে মাটিতে শুয়াইয়া বুকে পা দিয়া চাপ দিয়া ধরে রাখে এবং তারা ৩টি লিখিত স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক আমার সাক্ষর নেয়। আমার কোমড়ে থাকা এক লক্ষ টাকা নুরুল ইসলাম ও শার্টের পকেটে থাকা পয়তাল্লিশ হাজার টাকা হেলাল মিয়া জোরপূর্বক নিয়া যায়। ঘটনার সংবাদ পাইয়া আমার ঘনিষ্ঠ লোকজনসহ আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে এই সন্ত্রাসীবাহিনী আমাকে বলে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়টি কাউকে কিছু বলিলে আমাকে হত্যা করিয়া ফেলিবে এবং দেশছাড়া করিবে মর্মে হুমকী দিয়া দৌড়ে পালিয়ে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি একজন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হওয়ায় এর প্রায় সময় আমার উপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার করিয়া আসিতেছে।
আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে আমার নিকট থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া স্ট্যাম্পটি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু বুদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফন্ট বাজিতপুর উপজেলা সভাপতি ইন্দ্রজিৎ দাস, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কিশোরগঞ্জ জেলা যুগ্ম আহবায়ক সুজন বনিক, রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হরিপদ দাস নান্টু, বাংলাদেশে হিন্দু বুদ্ধ খ্রিস্টান কল্যান ফ্রন্টের উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সাহা রায়।

