বাড়িঢাকা বিভাগঢাকা জেলাজাফরুল্লাহ চৌধুরী (২৭ ডিসেম্বর ১৯৪১ -১১ এপ্রিল ২০২৩)

জাফরুল্লাহ চৌধুরী (২৭ ডিসেম্বর ১৯৪১ -১১ এপ্রিল ২০২৩)

মোঃ মফিজুর রহমান, ভাটারা(ঢাকা)শিক্ষানবিশ প্রতিনিধিঃ

“আপনার শার্টটা পুরোনো, প্যান্ট রিপু করা, একটু নুতন ঝকঝকে জামা কাপড় পরা কি যায় না ?”
– আমার তো এতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না এক সময় দামী গাড়ি, দামী পোশাক কী না করেছি, এখন মনে হয় এসব পাগলামি। – ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন বাংলাদেশি চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য সক্রিয়তাবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা। দেশের সেবায় ট্রাস্টি বোর্ড করে ১৯৭২ সালে সাভারে গড়ে তুলেছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ প্রণয়ন ও ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্মরণে..
জাফরুল্লাহ চৌধুরী
(২৭ ডিসেম্বর ১৯৪১ -১১ এপ্রিল ২০২৩)
——————————————
উনিশশো একচল্লিশ সালের ২৭শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন পরিবারে দশ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। তাই পরিবারে বড় ভাই নামে পরিচিত। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী থাকার সময়ে কলেজের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় এসে পরে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
ডাঃ মাহমুদুর রহমান বলছেন, তখন থেকেই স্বাস্থ্যখাতের জন্য ভালো কিছু করার জন্য তিনি ছিলেন সবসময় একরোখা, কিন্তু নিজ আদর্শে অটল। তিনি আরও বলেন,
“ডাক্তারি পাশের পর আমরা দুজনই যুক্তরাজ্যে যাই। সেখানে থাকা অবস্থায় সার্জারিতে কাজ করে সার্জন হিসেবে সে সুনাম অর্জন করে। ৬৯ সালের ওই সময়ে আমরা সবাই দেশ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। সে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন গড়ে তোলে এবং তার নেতৃত্ব ছিলো বলিষ্ঠ।
“যুদ্ধকালীন সময়ে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। স্বাধীনতার পর বিলাতে না গিয়ে দেশেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে শুরু করলেন। গণস্বাস্থ্য -ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের স্বীকৃতি পায়।”
ইংল্যান্ডে থাকার সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রকাশ্যে পাকিস্তানী পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আগরতলার মেলাঘরে তার গড়ে তোলা বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালের ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগিতায় সাভারে গড়ে তোলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আর এই গণস্বাস্থ্যের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একটি ভিন্ন মডেল দাঁড় করিয়েছেন যা তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
১৯৮২ সালে চালু হওয়া ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প মডেল দাঁড় করিয়েছেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশে অনেকেই যাকে সম্বোধন করেন গরীবের ডাক্তার হিসেবে।
তার স্কুল জীবনের সহপাঠী ও পরবর্তীকালে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের প্রধান ডা: মাহমুদুর রহমান বলছেন, চিন্তায় সৎ থেকে দেশের জন্য যেটা ভালো মনে হতো সেটাই সবসময় করে গেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
ছাত্রজীবনে বাম ধারার রাজনীতি করলেও সবসময়ই স্বাধীন রাজনৈতিক মতামতের মাধ্যমে জনমনে প্রভাব ফেলেছিলেন তিনি। ব্যাক্তিজীবনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন বিরল ধরণের নির্মোহ মানুষ। ঢিলেঢালা শার্ট প্যান্ট। পুরোনা বাসায় আসবাবপত্র পুরনো। গাড়িটাও পুরনো। সব মিলিয়ে নির্মোহ একজন মানুষ।
দেশ ও জাতির জন্য তার অবদান বলে শেষ করা যাবেনা।
ঢাকার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল রাত ১১ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮১ বছর।
তিনি মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা সব পেয়েছেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসকের মৃত্যুতে জাতি হারালো একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।
আপনার সাহসী উচ্চারণ আমরা মিস করবো। অনেক কিছু শেখার ছিলো আপনার কাছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments