
নাজমুল শেখ ,কোটালীপাড়া(গোপালগঞ্জ)শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি
কোটালীপাড়ায় গভীর রাতে গোয়ালঘর ভেঙে ৫ টি গরু ডাকাতি, নিঃস্ব কৃষক ।
গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। মুহূর্তেই জীবিকার মূল ভরসা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কোটালীপাড়ার কৃষক সঞ্জয় দত্ত ও তাঁর স্ত্রী মুক্তা দত্ত। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের বুড়ুয়া গ্রামে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুন্য গোয়াল ঘর ঘিরে এলাকাবাসীর ভীড়।গরু হারানোর শোকে কৃষক দম্পতির ঘরে নেমে এসেছে গভীর হতাশা। পরিবারের দুই ছেলেকে পড়াশোনা করানোর স্বপ্ন, সংসারের ভরসা—সবই যেন মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
সঞ্জয় দত্ত জানান, রাতে বসতঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে গোয়ালঘর ভেঙে গরুগুলো নিয়ে যায় ১০–১২ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। রাত ৩.৩০ মিনিটের দিকে গোয়াল ঘর থেকে শব্দ পাই। দরজা খুলতে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে দরজা লক করা। তখন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করি। দরজা ভেঙে বাইরে গিয়ে দেখি রাস্তায় দুইটা পিকআপ ভ্যান। একটাতে গরুগুলো তোলা, আরেকটায় ১০ থেকে ১২ জন দাঁড়িয় আছে। আমি পিকআপের দিকে দৌড় দিলে গুলি করার হুমকি দেয়। এরপরই দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
মুক্তা দত্ত কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, গরু ৫ টি রুজি রোজগারের মূল উৎস ছিল। দুই
ছেলে লেখা পড়া করে। দুইটি গরুর দুধ বেচেই সংসার চলতো। ৫ টি গরুর মধ্যে একটি ষাঁড় ছিল কিছুদিন আগে এক লক্ষ টাকা দাম বলেছিল কিন্তু বিক্রি করি নাই। সামনে ঈদে বিক্রি করে ঘর দিব। সব শেষ হইয়া গেলো। আমরা নিঃস্ব হইলাম।
ভাঙ্গারহাট নৌ–পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। কৃষক দম্পতি অভিযোগ দেওয়ার জন্য এসেছে। তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, কোটালীপাড়ায় সম্প্রতি গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। এর আগেও দুটি ঘটনায় গরু চুরি করতে এসে গরুসহ দুটি পিকআপ ফেলে পালিয়ে যায় একটি চক্র। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বাড়ছে এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

