
মোঃ তারিকুল ইসলাম, হোমনা (কুমিল্লা)।
কুমিল্লার হোমনায় ভুল চিকিৎসায় এক ব্যক্তির চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ভুয়া চক্ষু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষেমালিকা চাকমা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম শামীম, হোমনা উপজেলার চৌরাস্তা এলাকার একজন বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী। তিনি জানান, কিছুদিন আগে চোখে পানি পড়ার সমস্যায় হোমনা চৌরাস্তা মোড়ের শারবীন চশমা ঘরে ডা. মোঃ মহসীনের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করেন। কিন্তু কিছুদিন পর তার চোখে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ আব্দুল হাই জানান, ভুল চিকিৎসার কারণে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং অপারেশন ছাড়া চিকিৎসার আর কোনো উপায় নেই।
এ ঘটনায় শামীম লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালাম সিকদারের কাছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন এবং মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়জুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
আজ বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১টায় হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষেমালিকা চাকমার নেতৃত্বে এমওডিসি ডা. ফয়জুর রহমানসহ অভিযানে অভিযুক্ত চিকিৎসকের চেম্বারে অভিযান চালানো হয়। সঠিক চিকিৎসা সনদ ও বৈধ অনুমোদন না থাকায় তাকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে চিহ্নিত করে মোবাইল কোর্টে এক লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
অভিযুক্ত ডা. মহসীন ভবিষ্যতে আর কোনো চিকিৎসা কার্যক্রম চালাবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বাম চোখে পানি পড়ার সমস্যায় তিনি হোমনা চৌরাস্তা এলাকার শারবীন চশমা ঘরে অবস্থিত ডা. মোঃ মহসীনের কাছে চিকিৎসা নেন। গত ১৬ জুন ২০২৫ ইং তারিখে ওই কথিত ডাক্তার তাকে ৩টি চোখের ড্রপ ও ১টি ওয়েন্টমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু ঔষধ ব্যবহারের পর চোখের ব্যথা ও জ্বালা বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে মহসীনকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করেন এবং বলেন, “সব ঠিক হয়ে যাবে”।
চোখের অবস্থা অবনতি হলে সাইফুল ইসলাম পুনরায় ডা. মহসীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন মহসীন নিজেই পূর্বের ব্যবহৃত ঔষধ, বিশেষত Neopred ড্রপ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এরপরও চোখে উন্নতি না হওয়ায় তিনি ২১ জুন ঢাকাস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল হাই এর শরণাপন্ন হন। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, Neopred ড্রপ ব্যবহারের কারণে চোখে মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসা না করালে চোখ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে সাইফুল ইসলাম তার বাঁ চোখে দেখতে পাচ্ছেন না এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অপারেশন প্রয়োজন হলেও আর্থিক অক্ষমতার কারণে তার পরিবার চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, তার আয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তানের সংসার চলে, কিন্তু চোখ নষ্ট হওয়ায় তার কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি লিখিত অভিযোগে বলেন, “ডা. মোঃ মহসীন একজন ভুয়া চিকিৎসক। তার ভুল চিকিৎসায় শুধু আমার নয়, আরও অনেকের চোখের আলো নিভে গেছে। আমি চাই, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ এরকম প্রতারণার শিকার না হয়।”

