
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ ইকবাল মিয়া।
চট্রগ্রামে র্যাব -৭ এ কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পলাশ সাহার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আনা হয়েছে। সকালে র্যাবের নেতৃত্বে লাশবাহী ফ্রীজিং গাড়িতে করে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এসময় শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। স্বজনদের আহাজারি তে ভারী হয়ে ওঠে পলাশের বাড়ি। পরে কোটালীপাড়ার পারকোনা এলাকায় অবস্থিত মহাশ্মশানে তার অন্তস্টিক্রয়া সম্পন্ন করা হয়।
পলাশ সাহার আত্মহত্যার কারণ জানালের তার মা আরতি সাহা ।এর আগে বুধবার (৭ মে) চট্টগ্রাম র্যাব কার্যালয়ের নিজ অফিস থেকে পলাশ সাহার লাশ উদ্ধার করা হয়।তিনি র্যাব-৭ এ কর্মরত ছিলেন। মা আরতি সাহার গায়ে হাত তুলেছেন ( মারধর) পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা সাহা। যার কারনেই পলাশ নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি পলাশের মা ও ভাইয়ের ।
অন্যদিকে পলাশ সাহার লাশের পাশ থেকে চিরকুট পাওয়া গেছে । চিরকুটে তার নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রী বা মা কাউকেই দায়ী করেননি। নিজেকে দায়ী করেছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
পলাশ সাহা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ সাহার ছেলে।
মৃত পলাশ সাহার মেঝ ভাই নন্দ লাল সাহা ও তার মা আরতি সাহা জানান, দুই বছর আগে ফরিদপুরের চৌধুরীপাড়ায় পলাশের বিবাহ হয়। বিয়ের ৬/৭ মাস পর থেকে পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। প্রতিদিন কিছু না কিছু নিয়ে পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা সাহা পরিবারে ঝামেলা করতেন। মা আরতি সাহা ছেলে পলাশের সংসারে চট্টগ্রামে থাকতেন। এটা পলাশের স্ত্রী মেনে নিতে পারতেন না। তিনি সব সময় শাশুড়িকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য পলাশকে চাপ দিতেন। পলাশ মাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে চাইতেন না। পলাশ মা ও স্ত্রী দুইজনকেই ভালোবাসতেন।
বুধবার (৭ মে) সকালে সামান্য বিষয় নিয়ে আমার মা আরতি সাহা ও ভাই পলাশ সাহার গায়ে হাত তোলেন সুস্মিতা সাহা। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি আমার ভাই। আর এ কারণেই পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছেন বলে আমাদের ধারণা।’’
এদিকে মৃত্যুর আগে পলাশ চিরকুটে লিখে গেছে, আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী নন। আমি দায়ী। কাউকে ভালো করতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ন নিয়ে যায় এবং ভাল থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের উপর। তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে সব মায়ের জন্য। দিদি যেন কোঅর্ডিনেট করে।

