
বরিশাল সদর(বরিশাল)নিজস্ব প্রতিনিধি::
বরিশাল মেরিন একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় জমি ক্রয় করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন দুই ব্যক্তি। জমি কিনে দখলে নিয়ে বসবাস শুরু করার পরও এখন তারা নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা গ্রামের মো. মিজানুর রহমান মল্লিক (৫০) ও বানারীপাড়া উপজেলার মো. জালিস মাহামুদ (৩২)।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুর ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান মল্লিক জানান, ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ১৪৭২৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোট ৮ শতাংশ জমি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় তিনজন বিক্রেতার কাছ থেকে তিনি ক্রয় করেন। বিক্রেতারা হলেন- মো. মিজানুর রহমান খান, মো. এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা ও গোলাম মহিউদ্দিন মিল্টন। পুরো টাকাটি তিনি দ্বিতীয় বিক্রেতা এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লাকে বুঝিয়ে দেন এবং জমিতে একতলা একটি ভবন নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।
কিন্তু ২০১৯ সালে সুরুজ দাবি করেন, ভুল দাগের জমি বিক্রি হয়েছে। এরপর তিনি জোরপূর্বক মিজানুরকে তার ভোগদখলকৃত জমি থেকে উচ্ছেদ করে দেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত হয়- দুই মাসের মধ্যে জমির সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত করে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করে সাব-কবলা দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দিতে হবে। অন্যথায় জমির মূল্য বাবদ ৮ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে।
মিজানুর রহমান বলেন, এতদিনেও তিনি জমির মালিকানা বুঝে পাননি বা টাকা ফেরতও পাননি। তাই তিনি তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
অন্যদিকে, জালিস মাহামুদ জানান, তার পিতা মো. শাহজাহান মিয়া ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ৮১৫২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনজন বিক্রেতার কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। বিক্রেতারা হলেন- নূরজাহান (পক্ষে মোক্তার), সেরাজুল হক হাওলাদার (পক্ষে মোক্তার) এবং মোক্তার মো. এমদাদুল হক মোল্লা।
প্রথমে জমির দখল বুঝে পেলেও পরে নানা জটিলতা শুরু হয়। জালিস মাহামুদের অভিযোগ, স্থানীয় এএসআই আবুল বাসার রনি তাদের জমির দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫ ফুট জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন। এছাড়া পারভেজ মোল্লা, সাইফুল ইসলাম, রেজা মোল্লা, রুবেল হোসেন এবং সাবু মোল্লা তাদের ক্রয়কৃত জমিতে কোনো কাজ করতে দিচ্ছেন না এবং নানাভাবে হয়রানি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর অভিযুক্ত এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লার মোবাইল নম্বরে (০১৭৭৫-৭৪২৭৭১) একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এএসআই আবুল বাসার রনি কল রিসিভ করে জানান, তিনি আইন অনুযায়ী সঠিক আছেন এবং কারো জমি জোরপূর্বক দখল করেননি।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের জমির দখল ফিরিয়ে দেওয়া অথবা বিক্রয়মূল্য ফেরতের দাবি জানান।

