
মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যৌথবাহিনীর একটি সফল ও দৃঢ় অভিযান জনমনে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। সন্ত্রাস ও অস্ত্রের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে এই অভিযান যেন স্পষ্ট করে দিল—নির্বাচনী মাঠে অরাজকতার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ১০ এফআইউই ও ২৬ ইবি’র নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লোহাগাড়া উপজেলাধীন বড়হাতিয়া এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিএ-৭৯০৯ লে. কর্নেল মোহাম্মদ ভূমেদ্বীন পিএসসি (২৬ ইবি)।
প্রথম অভিযানে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাকফিরানী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা বাবুল (৩৫)-এর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিকারী এই সন্ত্রাসীর ঘর থেকেই উদ্ধার করা হয় ১টি এলজি, ২টি কার্তুজ, ৭টি রামদা ও ৪টি মোবাইল ফোন। আটক কালা বাবুল একই এলাকার মো. ইউনুসের পুত্র বলে জানা গেছে।
অপর অভিযানে বড়হাতিয়া এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘তৌহিদ বাহিনী’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবু তাহের (৬৫)-কে আটক করা হয়। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী তৌহিদের পিতা এবং মৃত আনু মিয়ার পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে থাকা এই আসামিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে স্থানীয় অপরাধ জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লোহাগাড়ায় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা কর্নেল মোহাম্মদ ভূমেদ্বীন পিএসসি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৯টায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে সেনাবাহিনীর এমন সক্রিয়, পরিকল্পিত ও সাহসী তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে, সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি দূর করতে যৌথবাহিনীর এই ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। লোহাগাড়ার আকাশে সেই ভোরের অভিযান শুধু অস্ত্র উদ্ধার করেনি—এটি একটি বার্তাও দিয়ে গেছে, আইনের শাসনই শেষ কথা।

