
মঈনুল ইসলাম, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি
বাড়ি-ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে আসবাসপত্র সহ সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বাড়িতে শুধু রেখে গেছেন দেয়ালের ইট আর বিদ্যুতের মিটার। ঘরের ভিতর অবশিষ্ট কিছুই রয়নি। শুধু পড়ে রয়েছে ময়লা আবর্জনা। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সুনামগঞে।জর তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মঞ্জুর আলীর বাড়ির সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছেন একই গ্রামের আব্দুল আলী ও তার ছেলে ফুল মিয়ারা।
স্থানীয়রা জানান, ইসলামপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল আলী ও তার সন্তানদের সাথে মঞ্জুর আলীর পরিবারের সাথে ৯ মাস আগে জমিজমা নিয়ে মারামারি হয়। এতে ঘটনাস্থলের আব্দুল আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তার মারা যান। এঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হলে সেই মামলায় মঞ্জুর আলী জেল থেকে জামিনে বের হয়। তার আরেক ভাই জেলে আছেন। পরিবারে শুধু তাদের বউ বাচ্চারা বসবাস করছেন। সেই ঘটনার বদলা নিতে ৯ মাস পর আবার ৫ ডিসেম্বর দিনদুপুরে তাদের বাড়িতে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এঘটনায় তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনো আমলে নেয়নি পুলিশ। তবে বাদাঘাট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই হাফিজুল ইসলাম সরজমিনে পরিদর্শন করে আসেন। এঘটনায় বাড়ির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছাড়া হয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছেন। উঠতে পারছেন না বাড়িতে।
বাড়ির মালিক মঞ্জুর আলী ও তার স্ত্রী রাবিয়া বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল আলীর ছেলে ফুল মিয়ারা আমাদেরকে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করে তুলে দিতে চাচ্ছেন। মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে জেল কাটিয়ে শান্তি না পেয়ে এখন আমাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে দিছে। গত শুক্রবার এবং শনিবার তারা দলবল নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে ঘরে রান্না করার আসবাসপত্রসহ সবকিছু তারা লুঠপাট করে নিয়ে গেছেন। আমাদের ঘরে থাকা ফ্রিজ, ফার্নিচার মালামাল,টিভি, সেলোমিশিনসহ প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার মালামাল তারা লুঠপাট করে নিয়ে গেছে। শুধু মাত্র ভাঙা দেয়াল আর বিদ্যুতের মিঠারটা রয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ দাখিল করেছি কিন্তু পুলিশ এখনো মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। মামলাটা আমলে নেয়নি।
এব্যাপারে অভিযোক্ত ফুল মিয়া লুঠপাটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আমার ভাইকে ৯ মাস আগে মঞ্জুর আলীরা খুন করেছে। এখনো আমাদের সাথে তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এনিয়ে ঝামেলা করায় আমরা তাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছি।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদাঘাট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই হাফিজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি পরে পুলিশ ফাড়িতে গেলে ঘুমে আছেন বলে কন্সটেবলকে জানিয়ে দেন। কথা বলতে নারাজ।
এদিকে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলামকে একাধিকবার যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

