বাড়িচট্টগ্রাম বিভাগচট্টগ্রাম জেলাবিচার নয়, প্রভাবই শেষ কথা—আমিরাবাদ ইউনিয়নে অনির্বাচিতদের দাপটে ন্যায়বিচার অধরা

বিচার নয়, প্রভাবই শেষ কথা—আমিরাবাদ ইউনিয়নে অনির্বাচিতদের দাপটে ন্যায়বিচার অধরা

মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

আমিরাবাদ ইউনিয়নে প্রতি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গ্রাম আদালত ও সালিশি বিচার কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক বিচার প্রার্থী ও সচেতন মহলের অভিযোগ—ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি থাকলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ থাকে অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও একটি রাজনৈতিক দলের পাতিনেতাদের হাতে। ফলে ন্যায়বিচার নয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে রায় নির্ধারিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচার চলাকালে ভারপ্রাপ্ত (প্যানেল) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম প্রায়ই নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকেন। বিপরীতে, বিচারস্থলের আশপাশে বসে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পাতিনেতারা ইশারা-ইঙ্গিতে বিচারিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেন। কোন পক্ষের বক্তব্য গুরুত্ব পাবে, কার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত যাবে—তা অনেক সময় বিচার শুরুর আগেই নির্ধারিত হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিচার প্রক্রিয়ার নামে পক্ষে-বিপক্ষে ঘুষ লেনদেনের ঘটনাও নতুন নয়। বিচারপ্রার্থী দুই পক্ষের কাছ থেকেই ‘খরচ’, ‘সম্মানী’ কিংবা ‘সমাধান ফি’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। একাধিক বিচারপ্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে আসি। কিন্তু এখানে আইন বা বিবেক নয়, চলে রাজনৈতিক প্রভাব। চেয়ারম্যান সাহেব থাকলেও সিদ্ধান্ত আসে অন্যদের হাত ধরে।” আরও অভিযোগ রয়েছে, বিচারিক পরিবেশে সাধারণ মানুষের কথা বলার সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পক্ষের লোকজন উচ্চস্বরে কথা বলে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে দুর্বল পক্ষ নিজেদের বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে না। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের বিচার ব্যবস্থায় এমন অনিয়ম শুধু ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর মানুষের আস্থাও নষ্ট করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আমিরাবাদ ইউনিয়নে বিচার ব্যবস্থা আরও বিতর্কিত ও অকার্যকর হয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কাই এখন স্থানীয়দের মধ্যে প্রকট হয়ে উঠছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments