
মো: সালমান ফারসী, নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুপার টাইফুন ফাং-ওং (স্থানীয় নাম: উয়ান) ফিলিপাইনে আঘাত হানতে আসা এ বছরের সবচেয়ে বড় ঝড় হিসেবে রবিবার দেশের উত্তর-পূর্ব উপকূলে তাণ্ডব শুরু করেছে। এর প্রভাবে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৯ লাখ ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই টাইফুনটি এমন এক সময়ে আঘাত হানছে যখন দেশটি মাত্র কয়েকদিন আগে টাইফুন কালমাগি-র বিধ্বংসী তাণ্ডব সামলে ওঠার চেষ্টা করছে, যাতে অন্তত ২২৪ জন নিহত হন। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং আসন্ন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
ফাং-ওং-কে সরকারি আবহাওয়াবিদরা ক্যাতানদুয়ানেস প্রদেশের উপকূলীয় জলরাশিতে শনাক্ত করেছেন। এটির বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় ১৮৫ কিমি (১১৫ মাইল) এবং দমকা হাওয়া ২৩০ কিমি (১৪৩ মাইল) পর্যন্ত। এর বৃষ্টি ও বাতাসের বলয় প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, যা দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাকে প্রভাবিত করতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, টাইফুনটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রবিবার গভীর রাত বা সোমবার ভোরের দিকে অরোরা বা ইসাবেলা প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্তো টেওডোরো জুনিয়র জনগণকে অবিলম্বে নিচু এলাকা ও উপকূলীয় গ্রামগুলি ছেড়ে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে এই ঝড়ের প্রভাবে মেট্রোপলিটন ম্যানিলা এবং কালমাগি-বিধ্বস্ত সেবু সহ দেশের প্রায় তিন কোটিরও বেশি মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সোমবার ও মঙ্গলবার স্কুল ও বেশিরভাগ সরকারি অফিস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সপ্তাহান্তে এবং সোমবার পর্যন্ত ৩২৫টি অভ্যন্তরীণ এবং ৬১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে বন্দরগুলিতে ৬,৬০০-এরও বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ মেট্রোপলিটন ম্যানিলা সহ ২০টিরও বেশি প্রদেশে ১০ ফুট পর্যন্ত জীবনঘাতী জলোচ্ছ্বাসের বিষয়ে মারাত্মক সতর্কতা জারি করেছে।
যদিও ফিলিপাইন এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানায়নি, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মতো মিত্র দেশগুলি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। ফাং-ওং-এর এই বিশাল পরিসরের কারণে এটি ফিলিপাইনের জন্য অন্যতম শক্তিশালী এবং ধ্বংসাত্মক ঝড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

