বাড়িঢাকা বিভাগগাজীপুর জেলাসোনারগাঁয়ে স্কুলের মালামাল রাতের আঁধারে বিক্রি: দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী–জনতার ঝাড়ু ও জুতা...

সোনারগাঁয়ে স্কুলের মালামাল রাতের আঁধারে বিক্রি: দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী–জনতার ঝাড়ু ও জুতা মিছিল

আনিসুর রহমান , সোনারগাঁও নিজস্ব প্রতিনিধি 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মালামাল রাতে গোপনে পিকআপে তুলে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়চত্ত্বরে ঝাড়ু ও জুতা প্রদর্শন করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানায়।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ—বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূইয়া, সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুম, এবং দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশে বিদ্যালয় বন্ধের দিনে রাতের অন্ধকারে নিয়মবহির্ভূতভাবে মালামাল বিক্রি করা হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে পিকআপভর্তি মালামাল স্থানীয়রা আটক করে এবং পরে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

মানববন্ধনে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন

পুরো ইউনিয়নকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভেবে মাসুম ও মনিরুজ্জামান যেভাবে ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা চরম দুঃসাহসিকতা। । স্কুলের মালামাল রাতের আঁধারে বিক্রি করার পর এখন উল্টো নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মাসুদ মোল্লা বলেন—

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরি করে বিক্রি করা এমন ন্যাক্কারজনক অপরাধ, যা পুরো ইউনিয়নের মানসম্মান মাটিতে মিশিয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ সবসময়  দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রি ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে কঠোর নজরদারি এবং পরিচালনা কমিটিকে সৎ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যক্তিদের দিয়ে পুনর্গঠন করা জরুরি।

মানববন্ধন শেষে ঝাড়ু ও জুতা হাতে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন উপস্থিতরা।

অভিযুক্ত সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুম দাবি করেন

একটি কুচক্রী মহল আমাদের ফাঁসাতে সাজানো নাটক করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মিটিংও করেছি।

বর্তমান সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূইয়া বলেন

স্কুল কমিটির সিদ্ধান্তে মালামাল বিক্রি করা হয়েছে, তবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিক্রি শেষে মাল তোলার সময় রাত হয়ে যায়। চুরির ঘটনা নয়।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতেও বিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় নিয়মবহির্ভূতভাবে মালামাল ভাঙ্গারির পিকআপে তোলা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি ধরে ফেলে এবং মালামাল পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনগণ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments