বাড়িচট্টগ্রাম বিভাগচট্টগ্রাম জেলাসরকারি বরাদ্দে দুর্নীতি ও অনিয়ম: হিসাব চায় লোহাগাড়ার জনগণ

সরকারি বরাদ্দে দুর্নীতি ও অনিয়ম: হিসাব চায় লোহাগাড়ার জনগণ

মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর গত দুই বছরের সরকারি বরাদ্দ ও হোল্ডিং ট্যাক্স মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এই অর্থের ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের অর্থের একটি বড় অংশ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি এবং ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মোট বরাদ্দের প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা কর্তন করে রাখেন। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ কী কী খাতে ব্যয় হয়েছে, তার সুস্পষ্ট তথ্য সাধারণ জনগণ জানেন না। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশিত হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে ইউনিয়নভিত্তিক আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা জরুরি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ না হওয়ার পেছনে দুইটি কারণ কাজ করছে—ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতা এবং একটি প্রভাবশালী সংগঠনের নীরব সমর্থন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সমর্থনের কারণে জনস্বার্থের প্রশ্নে দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।

গত ৫ আগস্টের পর ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় সনদসহ বিভিন্ন সেবায় নতুন করে ফি আরোপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত উপজেলা প্রশাসনের নামে প্রচার হলেও, স্থানীয়দের দাবি—কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিও এতে সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগের তীর উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর স্থানীয় কিছু নেতার দিকেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা দাবি করেন, অতীতে ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন-এর বাসিন্দা সুমন চৌধুরী অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান দাবি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক মহলকে মাসিক সুবিধা ও বরাদ্দের একটি অংশ প্রদান করে তিনি পদে বহাল রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি বরাদ্দ ও হোল্ডিং ট্যাক্সের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ জবাবদিহি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে ঘুরছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments