
মোঃ সাহেদ , শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি সদর
কীভাবে? গত ২৯ জুলাই রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে এক চিঠি লিখে জমি বেচাকেনার ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়েছেন।
তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, হেডম্যান প্রতিবেদন ছাড়াই আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ডিসি অফিস থেকে জমি রেজিস্ট্রেনের ব্যাপারে জেলা পরিষদের অনুমোদন পাঠানো হচ্ছে।
তাই তিনি সেটা অনুমোদন দেবেন কিনা, সেই ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়েছেন।
বিষয়টা আপাত দৃষ্টিতে একেবারেই নির্দোষ একটি চিঠি মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার নমুনা বোঝা যাবে তিন পার্বত্য জেলার বাজার ফান্ডের আওতায় থাকা জমি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার দিকে তাকালে। এমনই একটি নির্দোষ প্রশাসনিক চিঠির কারণে বাজার ফান্ডের আওতাধীন জমির মালিকরা কতটা বিপাকে পড়েছেন তা তারাই ভালো বুঝতেছেন।
এই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের এই চিঠির কারণে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হবে, এই অফিস চিঠি দেবে তাকে, সেই অফিস চিঠি দেবে আরেকজনকে, এইভাবেই চলতেই থাকবে, কিন্তু সমাধান আর হবে না।
কারণ পাহাড়ে হেডম্যানরা ৯৯ শতাংশের বেশি পাহাড়ি। আর পাহাড়ি হেডম্যানরা জমি বেচাকেনায় বাঙালিরা সম্পৃক্ত থাকলে প্রতিবেদন দেয়া তো দূরের কথা, তারা বাঙালিদের কাছ থেকেই ভূমির খাজনাই গ্রহণ করে না।
এই অবস্থায় বাঙালিরা জমি বেচাকেনায় হেডম্যান প্রতিবেদন পাবেন না, ফলে কেউ বিপদে পড়ে যেমন জমি বিক্রিও করতে পারবেন না, তেমনি কেউ চাইলেই অন্যের জমি কিনতেও পারবেন না। ফলাফল কতটা ভয়াবহ হবে, তা-কি বোঝা যাচ্ছে?

