বাড়িচট্টগ্রাম বিভাগচট্টগ্রাম জেলামেয়াদ শেষ, তবু ক্ষমতার চেয়ারে: লোহাগাড়ার তিন ইউনিয়নে আইনের ব্যর্থতা

মেয়াদ শেষ, তবু ক্ষমতার চেয়ারে: লোহাগাড়ার তিন ইউনিয়নে আইনের ব্যর্থতা

মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:

 আইনের পাতায় স্পষ্ট নির্দেশ, বাস্তবে তার উল্টো ছবি। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ—২ নং আমিরাবাদ, ৬ নং লোহাগাড়া ও ৯ নং আধুনগর—আইনগতভাবে বিলুপ্ত হওয়ার কথা বহু আগেই। কিন্তু বাস্তবতা যেন আইনের মুখে এক দীর্ঘশ্বাস। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্বাচিত কোনো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত বলে গণ্য হয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর নির্বাচনের শেষ গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর। সেই হিসেবে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবরই শেষ হওয়ার কথা ছিল জনপ্রতিনিধিদের আইনগত মেয়াদ। অথচ চার থেকে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও না হয়েছে নতুন নির্বাচন, না নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোনো প্রশাসক। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আইন কি শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ?

আমিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এস এম ইউনুস। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আত্মগোপনে গেলে উপজেলা প্রশাসন কিছুদিন প্রশাসক দিয়ে পরিষদ চালালেও পরে ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

লোহাগাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা চৌধুরী একইভাবে আত্মগোপনে গেলে বর্তমানে ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে আধুনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েও সরাসরি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এসব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়মিত ইস্যু করা হচ্ছে প্রত্যয়নপত্র, পরিচালিত হচ্ছে উন্নয়ন কাজ, নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। অথচ আইন অনুযায়ী এই পরিষদগুলোর অস্তিত্ব থাকার কথা নেই।

সচেতন মহলের অভিযোগ, এটি কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়—এটি সংবিধান ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “আইন যেখানে স্পষ্ট, সেখানে মেয়াদ শেষ হওয়া প্রতিনিধিরা কীভাবে ক্ষমতায় থাকেন? প্রশাসন কি তবে চোখ বন্ধ করে আছে?”

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-এর দায়িত্ব ছিল প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া অথবা দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। অপরদিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রিকল চাকমা বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশন-কে জানানো হলে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

আইনের ভাষা নীরব নয়, নীরব প্রশাসন। এখন প্রশ্ন একটাই—এই নীরবতা কতদিন? আর তার দায় নেবে কে?

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments