
মোহাম্মদ জামশেদ আলম,সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িগুলো মামলার পরিবর্তে ‘সমঝোতার মাধ্যমে’ ছাড়া পাচ্ছে, যা সড়ক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহন থানা হেফাজতে নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলা না করে দুই পক্ষের সমঝোতার নামে ঘুষ বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে হাইওয়ে পুলিশ—এমন অভিযোগ দিনদিন জোরালো হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিনই ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনার পেছনে ফিটনেসবিহীন ও বেআইনি পরিবহন চলাচল অন্যতম কারণ হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপের বদলে ‘সমঝোতার পথেই’ নিষ্পত্তি করা হয় বিষয়টি।
গত ৩০ জুন বিকেলে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান (নং: চট্টমেট্রো-ট ১১-৭১৩৭) দুর্ঘটনায় পতিত হলে হাইওয়ে থানা সেটিকে হেফাজতে নেয়। কিন্তু কোনো মামলা না করেই পরে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরদিন, ১ জুলাই বিকেল ৪টায় একই এলাকার ৭ নম্বর মিনিবাস (চট্টমেট্রো-জ ১১-১০০৪) ও একটি লরি (ঢাকা মেট্রো-৮৪০১২৫) মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। উভয় যান থানা হেফাজতে নিলেও কিছু ঘণ্টার মধ্যেই ‘দুই পক্ষের সমঝোতা’ দেখিয়ে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
গাড়ি মালিকদের ভাষ্যমতে—“দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি ছাড়েনি পুলিশ। কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দেনদরবারে সমঝোতা হয়েছে। এরপরই গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের ‘মামলাবিহীন সমাধান’ একদিকে যেমন সড়ক পরিবহন আইনকে লঙ্ঘন করছে, অন্যদিকে ঘুষ ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ফলে দোষী চালক ও মালিকরা আইনের হাত থেকে বারবার রেহাই পাচ্ছে—যা দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আবদুল মোমেন বলেন,“দুর্ঘটনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাড়িগুলো থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। যদি কোনো পক্ষ অভিযোগ না করে, তাহলে উভয় পক্ষের সমঝোতায় গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—যখন সড়ক পরিবহন আইন স্পষ্টভাবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণ ও মামলার বিধান রাখে, তখন পুলিশের এহেন ‘উদাসীনতা’ কতটা আইনসম্মত?

