
মো: বনি আমিন ,মনপুরা(ভোলা)নিজস্ব প্রতিনিধি
মনপুরায় গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই মহিষের বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারি চালিত অটোগাড়িসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়,অটোগাড়িতে থাকা আরও দুইজন সহযোগী কৌশলে পালিয়ে গেছে।
মনপুরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে মনপুরা থানার একটি টহল দল হাজিরহাট ইউনিয়নের আল ইকরা মডেল মাদ্রাসার সামনে পাকা সড়কে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। এ সময় একটি তিন চাকা বিশিষ্ট ব্যাটারি চালিত অটোগাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সেটিকে থামানোর সংকেত দেয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অটোগাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি দ্রুত পাশের একটি খালে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে অটোগাড়িতে থাকা বাগন আলী নামে এক যুবক কে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার কৃত ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের পরিচয় দেন মোঃ বাগন আলী (৪১), পিতা—মৃত শাহজাহান রাড়ী, সাং—দক্ষিণ সাকুচিয়া, মনপুরা উপজেলা।
পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে অটোগাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে চারটি বস্তায় মোট ৮০ কেজি ২০০ গ্রাম মহিষের মাংস উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মাংসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত ব্যাটারি চালিত অটোগাড়িটি জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়া দুই সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন — মোঃ আলমগীর (৪৫) ও মোঃ মন্নান (৩২), উভয়েই মনপুরা উপজেলার বাসিন্দা।
এছাড়া এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা করছে।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মহিষের মাংস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “চোরাই মাংস উদ্ধার ও অটোগাড়ি জব্দের ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।”
এ ঘটনায় মনপুরা থানায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ (চুরি) ও ৪১১ (চোরাই মাল আত্মসাৎ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

