
মোঃ শরিফুল ইসলাম, মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি।:-
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় গত কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে নিয়োগ বাণিজ্যের এক নগ্ন ও বেপরোয়া মহোৎসব। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য শুমারি থেকে শুরু করে লাভজনক সার-ডিলার নিয়োগ-প্রতিটি পদেই চলেছে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন। হরিলুটের এই মচ্ছবে জড়িয়ে পড়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, এসব নিয়োগে ওপেনস্রেটে স্বজনপ্রীতি ও চিহ্নিত বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অথচ জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনকভাবে নির্বিকার রয়েছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চরম মূল্যায়ন না করে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সার-ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শুরু হয় আরও বড় দুর্নীতি। ক্ষমতার অপব্যবহার ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এমন সব ব্যক্তিদের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে হতবাক করেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো-মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে!
একই সাথে বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাকেও সারের ডিলার করা হয়েছে। মণিরামপুরজুড়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ব্যক্তি প্রশাসনের আশীর্বাদে সার বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স পেলেন?
দুর্নীতিগ্রস্ত এই ডিলার নিয়োগের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। উপজেলার রাজগঞ্জে সার-ডিলার বাতিলের দাবিতে কঠোর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় জনতা। অন্যদিকে, উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে সার-ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। গোটা উপজেলাজুড়ে এখন চলছে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড়।
নিয়োগ বাণিজ্যের এই পুকুরচুরি ও চাঞ্চল্যকর সব অনিয়মের বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো: আব্দুল্লাহ হারুনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন,এবিষয়ে আমি কিছু জানি না,সার-ডিলার বিষয় ডিসির দায়িত্ব,ডিসি সরাসরি মন্ত্রণালয়ে যে ভাবে পাঠিয়েছে সেই ভাবে হয়েছে। এবিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: আশেক হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নাই। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন-গণমাধ্যমে একের পর এক তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পরও কেন দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? প্রশাসনের এই কালক্ষেপণ ও নীরবতা কি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকে রক্ষালীলারই ইঙ্গিত দেয়? অনতিবিলম্বে এই নিয়োগ বাণিজ্যের নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল না করলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।





