
সিফাত নিয়ামতপুর (নওগাঁ)নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
একটি ছবি কখনো কখনো হাজারো শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলে। একটি দৃশ্য হয়ে ওঠে মানুষের ভালো লাগার উপলক্ষ, জাগিয়ে তোলে আশার আলো, ছড়িয়ে দেয় মানবিকতার বার্তা। নওগাঁর নিয়ামতপুরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়ার এমনই এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত সৃষ্টি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মুর্শিদা খাতুন।
ছবিতে ফুটে উঠেছে শিশুদের উচ্ছ্বাস, মুখে আনন্দের আভা আর হাতে নতুন স্কুলব্যাগ নিয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আর সেই আনন্দঘন মুহূর্তের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন। দৃশ্যটি নিছক শিক্ষা উপকরণ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং জনসেবার সঙ্গে মানবিক অনুভূতি, দায়িত্ববোধ ও মমত্ববোধের এক সুন্দর মেলবন্ধন।
উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা সরকারি প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ নয়; উন্নয়নের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তার সুফল পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়, যখন কোনো শিশুর চোখে জ্বলে ওঠে আনন্দের দীপ্তি, যখন রাষ্ট্রীয় সেবার পরশে প্রান্তিক মানুষের মনে জাগে আস্থা ও আশ্বাস।
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যখন প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে কোমলমতি শিশুদের আনন্দের অংশীদার হন, তখন তাঁর দায়িত্ববোধের পাশাপাশি জনবান্ধব প্রশাসনের একটি ইতিবাচক চিত্রও মানুষের সামনে প্রতিভাত হয়। অভিভাবকের মতো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
নিয়ামতপুরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এ দৃশ্য হয়ে উঠতে পারে ভালো লাগা ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য উপলক্ষ। কারণ, মানুষ প্রশাসনের কাছে শুধু বিধিবিধানের প্রয়োগ প্রত্যাশা করে না; প্রত্যাশা করে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও বিপদে-প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাসও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুর্শিদা খাতুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ, পানির পট ও জ্যামিতি বক্স বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মারুফ হোসেন এবং ইকরামুল শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নেশাদ বানুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আমাদের প্রত্যাশা—এভাবেই প্রশাসনের সেবামুখী উদ্যোগ পৌঁছে যাক সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। সরকারি সেবা হোক জনবান্ধব, উন্নয়ন হোক সর্বজনীন, আর প্রতিটি শিশুর মুখের হাসি হয়ে উঠুক আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যয়।
কারণ, একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটানো কেবল একটি মুহূর্তের আনন্দ নয়; এটি একটি সুন্দর আগামী নির্মাণের প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।





