
আবু সালেহ মোঃ হামিদুল্লাহ ।। কটিয়াদী,(কিশোরগঞ্জ)নিজস্ব প্রতিনিধি।।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ নিজ এলাকা (ইটনা-মিঠামইন-অষ্ট্রগ্রামের) মানুষের মাঝে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সব ঋতুতে চলাচলের সুবিধার্থে গড়ে তুলেছিলেন বিগ বাজেটের মেগা প্রকল্প “অল ওয়েদার” নামক বিলাসবহুল এক সড়ক। মূলত এটি বর্ষা ঋতুর দিক বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছিল ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটি। এই সংযোগ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৭৪ কোটি টাকা। বর্তমানে এটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম একটি পর্যটন এলাকায় রুপান্তরিত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালীন সময় সারা দেশ থেকে ভ্রমণ করতে আসে বিভিন্ন পর্যটক। ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইটনা-মিঠামইন সড়কের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ইচ্ছা অনুযায়ীই এই সড়কটি তৈরি করে আওয়ামী লীগ সরকার। যদিও শুরু থেকেই পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সড়কটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। সড়কটি নিয়ে উঠছিল নানা সমালোচনা। পরে এক সভা শেষে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে এমন অবকাঠামো আর নির্মাণ করা যাবে না। ২৩ নভেম্বর (শনিবার) সকালে সিলেটে ‘হাওরে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্টেকহোল্ডার্স কনসাল্টেশন ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘সিলেটের নদ-নদীর অবাধ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে ও সিলেটকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে (ইটনা-মিঠামইন-অষ্ট্রগ্রাম) সড়কের বেশ কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হতে পারে। এ জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।’। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘আধুনিকতা ও উন্নয়নের নামে হাওরে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাওর ও মৎস সম্পদ। এতে পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিনিয়ত বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।’এর আগে, কর্মশালায় হাওর অধ্যুষিত সাতটি জেলা থেকে আগত সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় হাওর ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন তারা। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ সিদ্দীকী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের এই বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। কারণ এটি ভেঙে ফেললে তাদের চলাচলের সমস্যা দেখা দিবে সেইসাথে এই সড়কটির দৃশ্যমান যে সৌন্দর্য এটিও বিলীন হয়ে যাবে। এতে করে আর কোনো পর্যটকরাও আসবে না এখানে ভ্রমণ করতে।

