
বিপ্লব পোদ্দার ,ভাঙ্গা (ফরিদপুর)শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসায় ও অবহেলায় শারমিন বেগম (২৬) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। আজ (২৯ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবারসকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই প্রসূতির। নিহতের স্বামী অটোচালকের অভিযোগ তার স্ত্রীকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর চিকিৎসক ডা. নন্দিতা পালের অবহেলায় ও ভূল চিকিৎসার কারণে মারা যান স্ত্রী শারমিন বেগম।
নিহত প্রসূতি শারমিন বেগম আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের অটোচালক আরিফ শেখের স্ত্রী।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ওই প্রসূতিকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকাল ১১ টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. নন্দিতা পাল ও গোপাল দে। অপারেশনের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে তড়িঘড়ি করে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মারা যায় ওই প্রসূতি। পরে তাকে তার স্বজনেরা সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসূতির স্বামী আরিফ শেখ জানায়, তার স্ত্রীর সিজারের সময় মূত্রনালীর কেটে ফেলা হয়। এতে তার রক্তশূন্যতায় মারা যায় সে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে একটি ন্যায় বিচার দাবি করেন তিনি। এ বিষয় ভাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ বিষয় ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের গাইনী ডাক্তার নন্দিতা পাল জানান, ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওইদিন কোন গাইনী ডাক্তার না থাকায় আমাকে অপারেশন করার জন্য আনা হয়। পরে শারমিনের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাকে সিজার করার উপযুক্ত ছিলেন না। এমনকি দ্রুত অপারেশন না করা হলে তার শিশু বাচ্চাকে বাচানো যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে পানি ভাংছিলো, রক্তের হিমোগ্লোবিন কম ছিলো। এসব বিষয়গুলো শারমিনের স্বামী ও পরিবারের সদস্যকে অবহিত করা হয়। তারপরও তাদের সম্মতিতে মুচলেকা নিয়েই সিজার করা হয়।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সানসিভ জুবায়ের নাদিম অভিযোগের বিষয়ে জানান, প্রসূতি শারমিন বেগমের রক্তের শূন্যতা ছিলো। তার সিজারিয়ান অপারেশনে ঝুঁকি ছিলো। সে বিষয়টি প্রসূতি স্বামী ও স্বজনদের জানানোর পরে প্রসূতির স্বামী মুচলেকা নিয়েই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গত এক বছরে নরমাল ডেলিভারিতে ৬৯২ জন এবং ৬০ জন রোগীর সিজারের মাধ্যমে সফল অপারেশন করা হয়। এর মধ্যে এটিই একটি দূর্ঘটনা মাত্র।

