
স্টাফ রিপোর্টার, অরবিন্দ রায়।
বাংদেশের জাতীয় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আ. ন. ম. খলিলুর রহমান ইব্রাহিম বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। বিএনপি জনগনের সেবা করার জন্যা রাজনীতি করে।
আ. ন. ম.খলিলুর রহমান ইব্রাহিম
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার কুন্দাঘাটা গ্রামে ১৯৬৬ সালের ৯ জনু এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল জব্বার মায়ের নাম হেলেনা বেগম। ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড় সন্তান।
কিশোর কাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মনে প্রাণে জিয়ার আর্দশে বিশ্বাসী।আ. ন. ম. খলিলুর রহমান ইব্রাহিম অস্প্রদায়িক চেতনা বিশ্বাস করে। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ী।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। আ. ন. ম. খলিলুর রহমান ইব্রাহিম কে সবাই ভিপি ইব্রাহিম নামেই পরিচিত।
প্র. বাঃ রাজনীতি জীবনে আপনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত আসা কি ভাবে।
ইব্রাহিমঃ আমার রাজনীতিতে আসা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে একজন বলিষ্ঠ শ্রমিকের মত কোদাল দেখে। জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করি। ১৯৭৯ সালে বড়ইবাড়ি এ.কে ইন্সটিটিউটশন শাখার ছাত্রদলের ০১নং যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রাজনীতিতে কাজ করা শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৮৭সালে কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৮৯ সালে কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯০ সালে ২০ জানুয়ারি কালিয়াকৈর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রসংসদের ভিপি হিসেবে বিজয় লাভ করে কলেজের উন্নয়নে কাজ করি ১৯৯৩ সালে কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি । ১৯৯৭ সালে বোয়ালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হই। ২০০৯ সালে কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। ২০১১ সালে গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। ২০১৯ সালে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। ২০২১ সালে কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করছি । এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। বোয়ালি নরেন্দ্র নারায়ণ উচ্চবিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজ, গাছবাড়ি এবাদিয়া আলিম মাদরাসা ও
আমার প্রচেষ্টায় আমার বাড়ির পাশেই আমাদের দানকৃত ৩৪শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় হেলেনা জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্দাঘাটা বিদ্যালয়টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।
প্র. বাঃ রাজনৈতিক জীবনের আপনি জনগণের জন্য কি কি কাজ করেছেন।
ইব্রাহিমঃ আমি বোয়ালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর ইউনিয়নের জনগনের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে গরীব – দুঃখী মানুষের জন্য বিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি দিয়ে সহায়তা করেছি। এছাড়াও এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ করেছি। এদের মধ্যে বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কমপ্লেক্স, বড়ইবাড়ী- রঘুনাথপুর সংযোগ রাস্তায় নড়া খালেরর উপর রাস্তাসহ ব্রীজ নির্মাণ (এখনো নির্মাণাধীন), নলুয়া-গাছবাড়ি সংযোগ রাস্তায় গোয়ালিয়া নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ। ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সকল মাদরাসা-মসজিদ-মন্দিরের নির্মাণ কাজে আমি ব্যক্তিগত ভাবেও সহযোগিতা করেছি। (২০১৬ সালের আগে নির্মিত)
খাসবাসীর দুঃসময়ে সবসময় তাদের পাশে থেকেছি একারণে স্বার্থান্বেষী একমহলের প্ররোচনায় আমার নামে ৪টি মামলা হয়েছিলো, যা বর্তমানে জামিনে আছি।
কৃষকদলের তত্ত্বাবধানে ধানকাটার সময় বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কৃষকদের ধান ও কেটে দিয়েছি। গ্রাম থেকে বিভিন্ন কুসংস্কার দূরীকরণে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
প্র. বাঃ বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
ইব্রাহিমঃ উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যে সরকারই ক্ষমতায় আসবে স্বাভাবিক নিয়মেই উন্নয়নমূলক কাজ করবে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ও কাজ করছে।
প্র. বাঃ আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
ইব্রাহিমঃ আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমার এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করা। আমি সব সময় জনগণের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতে ও থাকব। যেকোনো পরিস্থিতিতেই এলাকার মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে চাই। মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুগোপযোগী উন্নয়ন করা, মাদক বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা, বেকার নিরসনে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাজ করা। এলাকার উন্নয়নে সার্বিকভাবে ভূমিকা পালন করা আমার একান্ত লক্ষ্য। ভবিষ্যতে সুযোগ হলে কালিয়াকৈরবাসী ও গাজীপুর ১ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।
প্রঃ বাঃ আপনারা এলাকার সাথে যোগাযোগ কেমন?
ইব্রাহিমঃ আমার শিকড় গ্রামে। ব্যবসা কিংবা সন্তানের পড়ালেখার জন্য
ঢাকায় থাকলেও যে কোন প্রয়োজনে এলাকায় চলে আসি। আমি প্রতি বছর এলাকার মানুষের সাথে ঈদ উদ যাপন করি। গরীব মানুষকে আমার সামার্থ্য মত সব সময় সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।
প্রঃ বাঃ বিএনপি ছেড়ে অন্য দলের যাবার কোন চিন্তা করেছে কি?
ইব্রাহিমঃ আমি জিয়ার আর্দশের সৈনিক। যত দিন রাজনীতি করব বিএনপির সাথে থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

