বাড়িরাজশাহী বিভাগনওগাঁ জেলাপর্যটকদের অতি প্রিয় স্থান "রক্তদহ বিল" ও অন্যগুলো। 

পর্যটকদের অতি প্রিয় স্থান “রক্তদহ বিল” ও অন্যগুলো। 

রিজওয়ান ,পত্নীতলা(নওগাঁ)নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আমের রাজধানী হিসেবে প্রসিদ্ধ, ঐতিহাসিক  সোমপুর বিহার,( বদলগাছি),  সীমান্ত ঘেঁসা উপজেলা  ধামুইরহাটের  ‘আলতা দীঘি,’- যারউত্তর পাড় ভারত,প্রাকৃতিক শালবনে ঘেরা পলাতক হাসিনা সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় উদ্দান ও এর প্রাকৃতিক  নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী অবলোকনের  জন্য  পলাতক সরকারের আমলেরই নির্মিত  সুবিশাল ‘ওয়াচ্ টাওয়ার ‘- যার উপরে উঠে শালবন সহ ভারতের  বহুদূ- র পর্যন্ত  অবলোকন করা যায়,এই ধামুইর হাট উপজেলার  ই ঐতিহাসিক  সুদূর  আরব থেকে আগত হযরত তাক্বিউদ্দীন আরাবীর  সীমান্ত ঘেঁসা  মাজার শরীফ( যেখানে  চৈত্র মাসে লাখো মানুষের  সমাগমে ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়,সীমান্তের ওপার থেকে ও অগনিত লোকজন আসে তাদের মনোবাঞ্ছা পুরুনের লক্ষে), এই উপজেলায় রয়েছে  আর এক বৌদ্ধ বিহার -যা জগদ্দল  ” মহা বিহার “- নামে পরিচিত। এ ছাড়া  এই উপজেলার  পশ্চিমে আগ্রাদ্বীগুনে অলৌকিক  ক্ষমতাসম্পন্ন  ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি,ঘুপসি বিলের পূর্ব ধারে চক্ চান্দিরা মৌজায় পাল বংশীয় রাজা চান্দিলালের ৩৬০ টি খননকৃত পুকুর পাশাপাশি অবস্থিত। এর ইতিহাসে জানা যায় রাজা চান্দিলাল তাঁর  প্রিয়তমা ছোট রানীর রোগমুক্তির জন্য এইপুকুর খনন করে প্রতিদিন একটিতে  করে ৩৬০ টি তে শ্নান করিয়ে  ৩৬০ দিন  পর সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তাঁর সেই  ছোট রানী। 
অপরদিকে  পত্নী তলা উপজেলার  ঐতিহাসিক  দিবর দীঘি- যার মাঝখানে  দাঁড়িয়ে আছে কৈবর্তরাজের বিজয় স্তম্ভ,ঘুপসি  বিলের পশ্চিম  ধারে পাল রাজার ধ্যান মন্দির ” যোগীর ভিটা”, এখানে মাটির নীচে  সাধক যোগীদের ধ্যানের  কুঠরী রয়েছে, বর্তমানে এই ধ্যান কূঠরী মাটির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে। ঠিক  এর পশ্চিম  দিকে দুটি গ্রামের পর রয়েছে  ‘ রামাবতী রানীর  ধ্বংসাবশেষের স্মৃতিচিহ্ন। 
এই  হারিয়ে যাওয়া দর্শনীয় স্থান গুলোতে প্রতিনিয়ত ভ্রমণ পিপাসুদের আগমন ঘটে, বদলগাছির সোমপুর বিহারে তো হাজারো দর্শকের আগমন নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার।
সাপাহার উপজেলার  ঐতিহাসিক  জবই বিল৷ দেশ সেরা খেতাবের অপেক্ষায়। 
নওগাঁর হাঁসাইগারি বিল তো এলাকাবাসীর  সেমি কক্সবাজারের তূল্য।প্রতদিন হাজারো দর্শনার্থীদের আগমনে  মুখরিত। 
ঠিক অনুরূপ ভাবেই ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নওগাঁর রাণীনগরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী” রক্তদহ বিল  ও পাখি পল্লী”।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে  রক্তদহ বিলের নয়নাভিরাম দৃশ্য ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।   এই বিলেই রয়েছে’ কোছমুড়ি’- নামক একটি দরগাহ  — যা  বন্যার পানিতেও ডোবে না।
নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল। ব্রিটিশ শাসন আমলে এই বিল এলাকায় ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে ফকির মজনু শাহের বাহিনীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যে যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের রক্তের বন্যা বয়ে যায় এই বিলে। তখন থেকে এই বিলের নামকরণ হয় রক্তদহ বিল।
এই বিলকে আরও পর্যটকবান্ধব করতে রক্তদহ বিল খনন, বিলের চারপাশ চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মান, নৌকায় চলাচলের  সহজ  পথ সৃষ্টি করা, চারপাশ দিয়ে পাখি দের আশ্রয়স্থলের জন্য  উপযুক্ত  পরিবেশ ও পাখিবান্ধব গাছ  লাগানো, বিলের সকল সংযোগ কারী সকল খাল  সংস্কার  করা, পাখি পল্লীকে আরও আকর্ষনীয় করাসহ নানাবিধ  কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। , ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের ও  উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলো সুচারুভাবে বাস্তবায়নে  জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ইউএনও রাকিবুল হাসান মহোদয়। 
এছাড়া উপজেলার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা কে  উন্নিত করনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নানামুখী উদ্যোগ  ও গ্রহণ করা হয়েছে।  
 মোদ্দা কথা, নওগাঁ জেলার  বিভিন্ন  দর্শনীয় স্থানগুলোতে বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু  হা্ঁসাগারি  ও রক্তদহ বিলের মোহনীয়তায় দর্শনার্থীরা পাগলপ্রায়ের মতো ছুটে আসছেন । যেন রূপকথার রানী কে দেখার মতো  বাসনা নিয়ে।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments