
রিজওয়ান ,পত্নীতলা(নওগাঁ)নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ধান-চালে সমৃদ্ধ ও বিখ্যাত, আমের রাজধানী হিসেবে প্রসিদ্ধ উত্তরের জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে আমন ধান কাটা- ও মাড়াই ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পোকামাকড়ের তান্ডব থাকলেও ভালো ফলন হয়েছে বলে ধারনা করা হলেও সন্তোষজনক ফলন হয় নাই । প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে ১৩/১৪ মন হারে ধান উৎপাদন হচ্ছে। অথচ কাটা-মাড়াইয়ের পরে ধানের ন্যায্য দাম কৃষক ভাই য়েরা পাচ্ছেন না। ফলে চাষিভাইয়েরা সরকারের উপর বীতশ্রদ্ধ।
কারন তাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে লাভের আশায় মাত্রাতিরিক্ত দামে সার কীটনাশক কিনে আমন ধান আবাদ করে বাজারে সেই ধানের দাম বাড়ছে না। দেশে ধানের বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় এক লাখ ৯৩ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭২৮ মেট্রিক টন। এরইমধ্যে মাঠের ৭০ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই শেষের পথে , অথচ দাম বাড়ছে না।
অত্র জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দুই সপ্তাহ আগেই এ সিজনের উৎপাদিত স্বর্ণা-৫ জাতের ধান উঠতে শুরু করেছে। শুরুতেই এ ধান বর্তমানে মান ও প্রকারভেদে প্রতি মণ এক হাজার ২২০ টাকা থেকে এক হাজার ২৬০ টাকা দরে বেচাকেনা করছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি গত বোরো মৌসুমে উৎপাদিত প্রতি মণ জিরাইশাইল ধান এক হাজার ৭৪০ টাকা থেকে এক হাজার ৭৬০ টাকা এবং শম্পা কাটারি এক হাজার ৬৮০ টাকা থেকে এক হাজার ৭৪০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলার কৃষক রেজাউল ইসলাম এক গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ বছর দুই বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের আবাদ করে ৪০ মণ ফলন পেয়েছি। সার-কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধান রোপণের শুরু থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতি মণ ধান উৎপাদন খরচ ৮৫০ টাকা। সেই ধান বর্তমান বাজারে সর্বোচ্চ এক হাজার ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের অগ্নিগতির বাজারে এত পরিশ্রমের পর প্রতি মণ ধানে মাত্র ৪১০ টাকা লাভ যথেষ্ট নয়। দাম না বাড়লে ভবিষ্যতে এই আবাদ বন্ধ করে দিতে হবে।’
রাণীনগর উপজেলার কৃষক শমসের আলী বলেন, ‘ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলাম। পাওনাদারদের হালখাতার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পর পকেটে কিছুই থাকবে না।’
নওগাঁ জেলার ধানের জন্য বিখ্যাত পত্নী তলা উপজেলা পাটিচড়া ইউনিয়নের গাহন গ্রামের বংকিম চন্দ্র, জামালউদ্দিন,মোতালেব, সাদেক, বাবু চৌধুরী, নাগরগোলা গ্রামের রাজু আসকারী, ভবতোষ মহান্ত,সুকোমল মন্ডল,রন্জন আমিন,গৌর চন্দ্র, সবুর সরদার,কাদের হাজি,লতিফ মন্ডল,বাগড়িয়া গ্রামের বিদ্যুত চন্দ্র, জিতেন মাস্টার,সুনিল,ছালিগ্রামের সাদেক মন্ডল,মোজাফফর, রসকানাই গ্রামের একরাম চামটি,ঝড়ু মন্ডল,কাদের নেতা প্রভৃতি ১ ম শ্রেণীর আবাদীভাইদের কথা বলে একইরূপ মন্তব্য পাওয়া যায় যে, খরচের তুলনায় দাম কম,এই বাজার দরে তাদের খরচাপাতি ই উঠবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, সরকার চাল আমদানি অব্যাহত রাখায় বাজারে ধানের দামের উঠা/ নামা নিয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই। এবার জেলায় আমনের ভালো ফলন হয়েছে, কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

