
কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ | শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার দিনভর চলা সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শহরে কারফিউ জারি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, গতরাত ৩টার দিকে যৌথ বাহিনী আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করে।
গতকালের সহিংসতায় ৪ জন নিহত, ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়িত বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেলে প্রথমে ১৪৪ ধারা এবং পরে সন্ধ্যার পর কারফিউ জারি করে প্রশাসন।
এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শহরের পরিবেশ থমথমে হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর শহর পরিণত হয় এক ‘ভূতুড়ে নগরীতে’।
রাস্তাঘাট ফাঁকা, হাট-বাজার জনমানবশূন্য এবং অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে কেউ কেউ বাইরে বের হয়েছেন। শহরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, বিজিবির চার প্লাটুন সদস্য এবং পুলিশের টহল দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

