মোঃ ফয়সাল আহম্মদ, কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) :
কাঠালিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক
• দুর্বল নির্মাণ কাঠামো
• ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে
• দেয়ালের আস্তর ঝরে পড়ছে
• টিনসেড ভবনের টিনে মরিচা ধরে ফুটো
• বৃষ্টির সময় ছাতা নিয়ে ক্লাস
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান। প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক জীবনহানির আশঙ্কা নিয়ে ক্লাস করছেন। এতে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে রয়েছে তিনটি ভবন—একতলা একটি পাকা ভবন, একটি সেমিপাকা ভবন ও একটি টিনসেড ঘর। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পাকা ও সেমিপাকা ভবন দুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, খসে পড়া পলেস্তারা, দেয়ালের আস্তর এবং মরিচাধরা ফুটো টিনের ছাউনি—সব মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় ছাতা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়।
ইতোমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিপা আক্তার বলেন, “ক্লাস চলার সময় প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।”
অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, “সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাদিন দুশ্চিন্তায় থাকি। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছগির হোসেন জানান, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান চালাচ্ছি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার আজিম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম জানান, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে নতুন ভবনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই বরাদ্দ আসবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ ও পুরাতন ভবনের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

