বাড়িবাংলাদেশেরাজশাহী বিভাগউল্লাপাড়ায় দেড় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক  ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

উল্লাপাড়ায় দেড় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক  ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৯টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং শিক্ষার মানেও নেমে এসেছে ধ্বসে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্কুল পরিচালনা, শিক্ষক সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের গুণগত মান রক্ষা কার্যত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  অবসরে যাওয়া, পদোন্নতি না হওয়া, নতুন নিয়োগ না আসা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব পদ বহুদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় শূন্যতার হার দিন দিন বাড়ছে।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় ক্লাস হয় না, আবার হলে তা নিয়মিত হএতে তাদের শেখার আগ্রহে ভাটা পড়ছে।
পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহেলা পারভীন বলেন ২০২২ সাল থেকে তার স্কুলে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম তিনি নিজেই করছেন পাশাপাশি ক্লাসও নিচ্ছেন। প্রধান  শিক্ষক না থাকায় ক্লাস নেওয়া সমস্যা হচ্ছে  এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যহত হচ্ছে। তার দাবি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদন্নোতি দিলে ভালো হবে। তিনি আরো জানান একজন প্রধান শিক্ষক থাকলে স্কুলের সব কিছুতেই সমন্বয় থাকে। এখন আমরা প্রশাসনিক কাজ, অফিস নথি ও পাঠদান সব একসঙ্গে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। এতে শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি কবিরুল ইসলাম বলছেন, প্রাথমিক স্তর একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। এখানে যদি শৃঙ্খলা ও মান বজায় না থাকে, তাহলে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রশাসনিক জটিলতা ও পদোন্নতির অভাবে দীর্ঘ শূন্যতাঃ উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, অনেক শিক্ষক পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন, আবার অনেকে অবসরে গেছেন। কিন্তু নতুন নিয়োগ না আসায় শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একাধিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলতে হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন,প্রধান শিক্ষক সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে এতে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় মানোন্নয়ন ও গতি ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যত তাড়াতাড়ি দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।৷
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments