
শাব্বীর আহমদ শিবলী ,বিশেষ প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেছেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল বুঝে হোক অথবা না বুঝে হোক জাতীয় নির্বাচন বিলম্ব হওয়ার কথা বলছে, মনে রাখবেন এতে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের সুযোগ হয়ে যাবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হলে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। তা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এতে জাতীয় নির্বাচন বিলম্ব হওয়ার কারণ হবে। বর্তমানে জনগণের চাওয়া একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যেখানে সবাই অংশ নিতে পারবে। এটি প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে দলীয় প্রতীকে পিআর পদ্ধতি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চায়না যা ইতিমধ্যে আমরা জাতীয় সংস্কার কমিশনের নিকট সংলাপে জানিয়েছি।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ হবিগঞ্জ জেলার প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ হবিগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা মাসরুরুল হক হবিগঞ্জীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম চৌধুরীর পরিচালনায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আরো বক্তব্য রাখেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন ও কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মুফতি জাবের কাসেমী।
তিনি বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন জায়গা চাঁদাবাজি, দখলবাজি চলছে। মসজিদ মাদ্রাসা, হাটবাজার ও মার্কেট কমিটি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে মাওলানা ইউসুফী আরও বলেন, পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির নির্বাচন বাংলাদেশে সংবিধান ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।এই পদ্ধতিতে জনগণের সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় না, বরং দলীয় তালিকা ভিত্তিক ক্ষমতার বণ্টন ঘটে, যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সরাসরি জনপ্রতিনিধিত্বের পরিপন্থী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন,পিআর পদ্ধতি প্রয়োগ হলে রাজনীতিতে সংকট আরও বাড়বে। পিআর পদ্ধতি নির্বাচনের কারণে জোট সরকার গঠন করা হচ্ছে বেশিরভাগ দেশে। নেপাল ও ইসরায়েলে কয়েক বছরে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। পিআর পদ্ধতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন বিএনপির সাথে জোটে যাওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি কারো সাথে জোট বদ্ধ হতে হয় তখন খাছ কমিটি ও মজলিসে আমেলার বৈঠকে সকলের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া হবে।
তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দেন, যাতে করে দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।

