
মোঃ নাসিরুল ইসলাম, ফুলতলা(খুলনা)বিশেষ প্রতিনিধি :
ভিকটিম মোঃ সুমন মোল্যা (২৯) এবং আসামী মোমিন গাজী প্রায় সময় এক সাথে চলাফেরা করত। আসামি এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক কারবারী, চুরি, চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। চোরাই নৌকা এবং স্যালো মেশিন ক্রয় বিক্রয় করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমের সাথে আসামিদের বিরোধ চলে আসছিল। ভিকটিম গত ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় তার শ্যালক ইকরামুল খান এর মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ী থেকে জামিরা বাজারে যায়। বাজার থেকে কাজ শেষে ভিকটিম মোটরসাইকেল যোগে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা করে এবং দুপুর অনুমান ১২:৫০ ঘটিকার সময় ফুলতলা থানাধীন পিপরাইল (পশ্চিমপাড়া) গ্রামস্থ একটি ধান ক্ষেতের দক্ষিণপাশে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে থাকা আসামি মোমিন গাজী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ০২ জন আসামি তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দিয়ে ভিকটিমের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এবং সাথে সাথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা অন্যান্য আসামিরা ভিকটিমকে ঘিরে ধরে। মোটরসাইকেলে থাকা প্রধান আসামি মোমিন গাজী ও অজ্ঞাতনামা আরও আসামিরা তাদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ীভাবে গুলি চালায়। যার ফলে ভিকটিমের গলার ডান পাশে, ঘাড়ে এবং চোয়ালে গুলি লেগে চোয়ালসহ গলা এবং শ্বাসনালীর মাংস ছিড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। গুলির শব্দে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা কয়েকটি ফাঁকা গুলি করে মোটরসাইকেল যোগে এবং বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে ০২:২০ ঘটিকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেছে মর্মে জানায়। ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের পিতা ২৩/০৪/২০২৫ খ্রি: থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামিদেরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২০২৫ ঘটিকার সময় র্যাব-৬ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, সুমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর জেলার কোতয়ালী থানা এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে আভিযানিক দলটি ঘটনার সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে র্যাব-৬ (সিপিসি-৩) এর সহায়তায় যশোর জেলার কোতয়ালী থানাধীন দাইতলা বাজার হতে সুমন মন্ডল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ১। মোমিন গাজী (২৮), পিতা-মোঃ নাজিম গাজী, সাং-পিপরাইল, থানা-ফুলতলা, জেলা-খুলনা’কে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা জেলার ফুলতলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও প্রধান আসামি সুমন মোল্যা সহযোগি কয়েকজনের নাম উল্লেখ এর মধ্যে তরিকুল মোল্যা পিতা-ইসহাক মোল্যা, মো: রবিউল মোল্যা, পিতা- আরশাদ আলী মোল্যা, ফয়সাল বিশ্বাস, পিতা-মৃত: গোলাম বিশ্বাস, নাজিম ওরফে নায়েক গাজী, পিতা- মৃত ওহাব গাজী, রনি বিশ্বাস,পিতা-ফারুক বিশ্বাস, মাসুম গাজী, পিতা- নাজিম ওরফে নায়েক গাজী, সাদ্দাম মোড়ল, পিতা- নাজের মোড়ল, সাহেদ মোড়ল, পিতা- নাজের মোড়ল নাম উল্লেখ করেন। একই মামলায় আরও পাঁচ জনের নাম অজ্ঞাত রয়েছে। উক্ত মামলায় মিনারুল মোল্যা, পিতা- আব্দুল লতিফ মোল্যা,মোমিন গাজী, পিতা নাজিম গাজী ওরফে নায়েক গাজী কে খুলনা জেলা কারাগারে পুলিশ হস্তান্তর করে এছাড়াও অন্য আসামিদের ধরতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।

