
মনোহরদী(নরসিংদী)নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়ন এর চুলা এবং তার আশেপাশের গ্রামে কাজি বাড়ি/মিয়া বাড়ির পৃষ্ঠ-পোষকতায় এবং ইমন আলমের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং এর চলছে নানান অপকর্ম।যার মধ্যে রয়েছে মাদক,জুয়া,সুদ,চাঁদাবাজি,ভুমি দখল,মামলা-হামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি সহ নানান ধরনের আইন বিরুধী কাজ।
১/কাজী বাড়ি/মিয়া বাড়ির কাজী আজিজুল হক ওরুফে কাজল মেম্বার ছিল দুর্ধর্ষ “সর্বহারা” পার্টির কমান্ডার।তৎকালিন সময়ে তার সংগঠিত বিভিন্ন অপকর্মের প্রমান হিসেবে বেশ কয়েকটি মামলার নথি পাওয়া যায়।গোতাশিয়া ইউনিয়ন এর বর্তমান চেয়ারম্যান (আবুল বরকত রবিন) কে কাজল মেম্বার বন্দুক দিয়ে নড়িয়া খাল এর ব্রিজের উপর হত্যা করার উপক্রম করলে ভাগ্যক্রমে রবিন চেয়ারম্যান সেখান থেকে প্রানে বেচে যায়।বর্তমানে চুলার বাজারে তমির চা এর দোকানে বসে লুডু এবং তাসের মাধ্যমে জুয়ার আসর চালিয়ে যাচ্ছে।বাজারের ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে টাকা হাওলাত দিয়ে পরবর্তীতে চড়া মূল্যে সুদ আদায় এর মাধ্যমে সুদি কারবার চালিয়ে মানুষকে জিম্মি করে যাচ্ছে।মানুষের ভূমি অবৈধ ভাবে দখল সহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা তার নিত্য নৈমিত্তিক কাজ।
২/কাজল মেম্বার এর আর এক ভাই কাজী দেলোয়ার হোসেন ওরুফে “দেলু ডাহাইত”।সে ও ছিল তৎকালিন সময়ের “সর্বহারা” পার্টির কমান্ডার।তার নেতৃত্বে চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই এবং হত্যাকান্ড ঘঠানোর ও প্রমান পাওয়া যায়।তারমধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য এবং চাঞ্চল্যকর মামলা হচ্ছে পলাশ হত্যা মামলা।সেই মামলায় নিম্ন আদালত তাকে ফাসির আদেশ দিলে তারা মাননীয় হাই-কোর্টে আপিল করে এবং সেই আপিল শুনানিতে মাননীয় হাই-কোর্ট ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে এবং পরবর্তী তে তারা মাননীয় সুপ্রিম-কোর্টে আপিল করলে সুপ্রিম-কোর্ট তার সাজা কমিয়ে যাবৎ জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করে।বর্তমানে কাজী দেলোয়ার হোসেন দেলু ওরুফে দেলু ডাহাইত সৌদি আরবে পলাতক অবস্থায় অবস্থান করতেছে।সেখানে ও সে নানা ধরনের অপকর্ম,দালালি এবং হুন্ডির ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত।তার অর্থায়নে এবং পরামর্শে তার ভাইয়েরা এলাকায় বিভিন্ন রকম অরাজকতা চালিয়ে আসছে।
৩/তাদের আর এক ভাই কাজী সারোয়ার হোসেন ওরুফে “গাঞ্জা” ছরু।সে ও তৎকালিন সময়ের “সর্বহারা” কমান্ডার।তার নেতৃত্বে তৎকালিন সময়ে বহু নারী সম্ভ্রম হারিয়েছে,বহু মানুষ ভিটা মাটি হারিয়েছে।সে তৎকালীন সময়ে “সর্বহারা” পার্টির সদস্য এবং কমান্ডার দেরকে নারী,গাজা,মদ এবং রসদ পৌছানোর কাজ করত।বর্তমানে সে এবং তার সহকারী দের মাধ্যমে এলাকায়,গাজা, হিরোইন,চোরাই মদের এবং দেশী মদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।তার অন্যতম সহকারী দের মধ্যে খলিল ভূইয়া ওরফে “গাঞ্জা” খইল্ল্যা বা “খইল্ল্যা চোরা” অন্যতম।তার মাধ্যমে এলাকায় গাজার ব্যবসা,গাজার আসর,ছিনতাই,চুরি,ভুমি দখল সহ নানান অপকর্ম করিয়ে থাকে।
৪/তাদের আর এক ভাই কাজী সাখাওয়াৎ হোসেন মহব্বত ওরুফে “বাবা” মহব্বত।সে এবং তার স্ত্রী মিলে ঢাকায় একটি হাসপাতাল খুলে ।যেখানে কাজী সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী “সৃতি ভূইয়া” ছিল ভুয়া ডাক্তার।সেখানে তারা হাসপাতালের নামে নানান অপকর্ম চালাত।যার প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের হাসপাতাল টি সিলগালা করে দিয়ে তিল লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেয় এবং ভুয়া ডাক্তার কাজী সাখাওয়াত হোসেন মহব্বত এর স্ত্রী “সৃতি ভূইয়া” আটক করে নিয়ে যায়।ঘটনাক্রমে ভুয়া ডাক্তার “সৃতি ভূইয়ার” প্রথম বাঁচ্চা হয় কারা হাজতে।পরবর্তী তে জেল-হাজত থেকে বের হয়ে তারা তাদের ভাড়া করা ফ্লাট বাসায় দেহ ব্যবসা,মাদক এবং জুয়ার মত অপকর্ম চালিয়ে আসতেছে।এলাকায় কাজী সাখাওয়াত হোসেন মহব্বত এর পৃষ্ঠপোষকতায় ইমন আলম কিশোর-গ্যাং এর মাধ্যমে ইয়াবা বিক্রি,ইয়াবার আসর বসানো,মানুষের জমি অবৈধ ভাবে দখল,মানুষকে নানান ভাবে হুমকি দেওয়া,চাঁদাবাজি করা সহ নানান ধরনের অসামাজিক এবং বেআইনি কার্যকলাপ চালাচ্ছে।কিশোর-গ্যাং এর অন্যতম সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেঃ-রিদয়,রাফি,আব্দুল্লাহ,শাওন,জাহিদ,টুটুল,রাতুল,আরাফাত,পাভেল,পারভেজ,রিয়াজ সহ আরও অজ্ঞাত নামা কয়েকজন।
স্থানীয় দের সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকদের সাথে বিভিন্ন ছবি তুলে সেই ছবি দেখিয়ে মানুষকে ভয়-ভিতি প্রদর্শন করে।তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে ভয় পায়।
নাম বলতে অনিচ্ছুক একজন বলেন তাদের দ্বারা অনেক মানুষ ই ভুক্তভোগী।তার মধ্যে চা এর দোকানদার তমি,ডিম বিক্রেতা হারুন,পান বিক্রেতা,সি.এন.জি চালক,দিন মজুর,কাঠ ব্যবসায়ি গৌরাঙ্গ,সার এবং কীটনাশক ব্যবসায়ী,,মাছ বিক্রেতা,চাকুরীজীবি,ব্যবসায়ী,সাবেক ইউপি সদস্য,স্কুল কলেজ গামী ছাত্র সহ সহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষকে তারা জিম্মি করে তারা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।এমনকি তাদের কবল থেকে তাদের আত্মীয় স্বজন ও রেহাই পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের এক আত্মীয় বলেন,গোতাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অধিগ্রহন-কৃত আমার খালার অংশের জমির মূল্য সরকারের দেওয়া ৫০০০০/- টাকা কাজল মেম্বার আত্মসাৎ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক ইউপি সদস্য জানান,আমার নির্বাচনি ৫ বছরে আমার সাথে থেকে আমাকে না জানিয়ে আমার নাম বলে বহু মানুষের কাছ থেকে দরবারের খরচের নাম করে প্রায় ১০০০০০০/-টাকা কাজল মেম্বার আত্মসাৎ করেছে।পরবর্তীতে আমি এই টাকা মানুষকে ফেরৎ দিয়েছি।তার এ সমস্ত কার্য-কলাপের কারণে আমার সামাজিক সুনাম নষ্ট হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের আর একজন আত্মিয় জানান,আমার ভাগ্নির ডিভোর্স এর পর আমার ভাগ্নির কাবিনের ২০০০০০/- টাকা নেওয়ার জন্য কাজল মেম্বার,দেলু ডাহাইত এবং গাঞ্জা ছরু খইল্লা চোরার মাধ্যমে প্রস্তাব করলে আমরা তাদেরকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এই দিন রাতেই দেলু ডাহাইত,কাজল মেম্বার,গাঞ্জা ছরু এবং খইল্ল্যা চোরার নেতৃত্বে আমাদের বাড়িতে ডাকাত দল আক্রমন করে এবং আমার বাবাকে কুপিয়ে জখমি করে সেই ২০০০০০/-টাকা সহ আরও নগদ প্রায় ১০০০০০/- টাকা এবং প্রায় ৩৫০০০০/- টাকার স্বর্নালঙ্কার নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের আরও একজন আত্মীয় বলেন,”সর্বহারার” আমলে আমার বাবা ছিলেন একজন দলিল লেখক।তখন তারা আমার বাবা কে জিম্মি করে কিছু ভুয়া,জাল এবং বানোয়াট দলিল করিয়ে রাখে।যা দিয়ে তারা মানুষকে আজ পর্যন্ত হয়রানি করে যাচ্ছে।কিছু দলিলের মাধ্যমে তারা একবার বিক্রিত জমি তিন-চার বার বিক্রি করে যাচ্ছে।এসব কিছুর কারণে আমার মৃত বাবা এবং আমাদের ইজ্জত সম্মান নষ্ট হচ্ছে।
কিশোর-গ্যাং এর অন্যতম সদস্য রাফির দাদা জনাব মুশকু বলেন, এই মহব্বত এবং আলম আমার নাতি-রে যে কি লাল বড়ি খাওয়াইলো!আমার নাতি এখন আর আমাদের কথা শুনে না।আর এসব কিছুর পিছনে আলমের হাত।
স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি জানান মসজিদে জমি দিবার নাম করে তিনবার করে টাকা নিয়েও আজ পর্যন্ত মসজিদের জমি লিখে দেয় নি।বারবার বলার পরও কোন সমাধান হচ্ছে না।
এসব বিষয়ে ইমন আলমের বাবা জনাব মোঃ কাদিরকে প্রস্ন করা হলে তিনি তার সন্তানের সকল অপরাধ অকপটে স্বীকার করেন এবং সকল কিছুর জন্য কাজি বাড়ি/মিয়া বাড়ির লোকজন দেরকে দোষারোপ করেন।তিনি আরও বলেন এই,কাজল মেম্বার,দেলু ডাহাইত,গাঞ্জা ছরু এবং খইল্ল্যা চোরার কথায় আমার এই ছেলে(ইমন আলম) আমার প্রবাসি দুই ছেলের সব টাকা পয়সা শেষ করে ফেলেছে।তার কারণে,এখনো আমার মানুষের জমিতে কাজ করে খেতে হয়।ঘরে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে কিন্তুু আমার ছেলের এসব কার্য-কলাপে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারতেছি না।আমি আমার ছেলের এসব কাজকে মনে প্রানে নিন্দা করি।
এ বিষয়ে কিশোর-গ্যাং সদস্য মোঃ রাফি’র বাবা মোঃ অহাব দুবাই প্রবাসি।সেখান খেকে তিনি জানান,আমি লোক লজ্জার ভয়ে বাড়িতে আসি না।আমার ছেলেকে দিয়ে ইমন আলম যে সমস্ত কাজ কর্ম করাচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না।আমার ছেলের বর্তমান এবং ভবিষ্যতে ইমন আলম নষ্ট করে দিচ্ছে।আমার ঘরে থাকা সকল টাকা-পয়সা,স্বর্নালংকার সহ ঘরের অনেক জিনিস ইমন আলমের ইশারায় আমার ছেলে বাহিরে নিয়ে বিক্রি করে মাদক সেবন করে।এখন সে আমাকে জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

কিশোর-গ্যাং এর অন্যতম সদস্য এবং ইমন আলমের প্রধান সহযোগী মোঃ রিদয় এর বাবা-মা এর সাথে যোগাযোগ করলে তারা এক কথায় বলেন যে আমরা ইমন আলমের কবল থেকে মুক্তি চাই।আমার ছেলে আলমের ইশারায় এলাকায় যেসব কাজ করে বেরায় তাতে আমাদের মান-সম্মান সব শেষ।রাস্তায় বের হতে পারি না মানুষ নানান কটু কথা বলে।
কিশোর-গ্যাং আর এক অ সদস্য আব্দুল্লাহ সম্পর্কে এলাকা বাসি জানান যে,ইমন আলমের সাথে মিলে নানান অপকর্ম করার কারণে তার বাবা তার মা কে ডিভোর্স দিয়েছে।আর এ-সমস্ত কার্য-কলাপের জন্য এক পর্যায়ে তার মা মানসিক রোগী হয়ে গেছে।
কিশোর-গ্যাং এর অন্যান্য সদস্য যেমনঃ-রিয়াজ,শাওন,জাহিদ,পারভেজ,পাভেল,রাতুল,আরাফাত,টুটুল সহ সকলের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে তারা কাজল মেম্বার,দেলু ডাহাইত,গাঞ্জা ছরু,বাবা মহব্বত,ইমন আলম,এবং খইল্ল্যা চোরার কবল থেকে তাদের সন্তান এবং সমাজের মুক্তি চান।

