
মো: বনি আমিন।মনপুরা(ভোলা) নিজস্ব প্রতিনিধি
ভোলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ ওয়ার্ডের তালতলা স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা খোকন মাঝির ছেলে শাকিল (২৬) ছিলেন একজন জেলে । সখের বশে ছয় বছর আগে থেকে পালন করতেন বিষধর গোখরা সাপ । সেই সাপ নিয়ে নিজ এলাকায় মানুষকে খেলা দেখাতেন শাকিল। বিনিময়ে কিছুই নিতেন না দর্শক দের কাছ থেকে। শনিবার বিকেল চারটার দিকে সাপটি নিয়ে এলাকায় খেলা দেখতে গেলে গোখরা সাপটি শাকিলের বাম পায়ের উরুতে কামর বসিয়ে দেয়।শাকিলের মা বলেন, আমার ছেলে ৬ বছর আগে থেকে সাপ পালন করেন এর আগেও একটি সাপ ছিলো। সেই সাপটিও দুই বছর আগে একবার শাকিলকে কামর দিয়েছিল কিন্তু সেই সাপের বিষ শাকিল নিজেই নামিয়ে ছিলো। সাপটি হঠাৎ করে হাড়িয়ে যায়। এর পর ৮ মাস আগে শাকিল আরেকটি সাপ ধরে আনে। সেই সাপটিকে নিয়ে সে মানুষ কে খেলা দেখাতো কিন্তু কারো কাছ থেকে কখনো টাকা নিত না। সাপটিকে গোসল করাত দুধ কলা খাওয়াত। তিনি আরও বলেন গতকাল শনিবার বিকেলে তালতলা বেড়িবাঁধ এলাকায় অন্যান্য দিনের মতো সাপ খেলা দেখাতে যান শাকিল। হঠাৎই সবার সামনে নিজের পোষা সাপটি তাঁর বাম পায়ের রানে ছোবল মারে। ছোবলের পর তিনি নিজেই মুখ দিয়ে চুষে চুষে বিষ নামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সফল হয়নি।শাকিলের চাচা ফিরোজ মাঝি বলেন,আমার ভাতিজা শাকিল দুধ কলা খাইয়ে ৮ মাস সাপটিকে পাল করে আজ সেই সাপটি কেরে নিলো শাকিলের প্রান। যে সাপটিকে সন্তানতুল্য ভালোবেসে পোষে ছিলো শাকিল, সেই সাপই আজ কেড়ে নিল তার প্রাণ। যার চোখে পর্দা নেই তাকে যতই পোশ মানানোর চেষ্টা করেন সে সুযোগ পেলে আঘাত করবেই। এটাই বাস্তবতা এটি আমাদের জন্য গভীর দুঃখ ও সতর্কতার বার্তা। লোক মুখে শুনা কথা আজ সত্যি হলো। এমন ঘটনা যেন আর কারো সাথে না ঘটে। গ্রাম বাসি বলেন , প্রায় ছয় বছর আগে একটি গোখরা সাপ ধরে এনে শাকিল সেটিকে পোষা শুরু করেন। সেই সাপটি পোষও মেনে ছিলো। সেই গোখরা সাপটি হঠাৎ করে হাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে শাকিল এলাকায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে সাপটিকে খুজতে থাকে। প্রায় ৮ মাস আগে সে এলাকার একটি বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাত লাম্বা একটি গোখরা সাপ ধরে তার বাড়িতে নিয়ে আসে।এলাকা সূত্রে আরও জানা যায়, শনিবার বিকালে সাপটি শাকিলকে ছোবল দিলে পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্থানীয় লালু ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শাকিলের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। পরে তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান বলেন, ‘সাপের বিষ শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। দ্রুত এন্টিভেনম দেওয়ার পরও আমরা তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।’রোববার (৬ জুলাই) ভোর ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিল মারা যান।

