বাড়িবাংলাদেশেবরিশাল বিভাগমনপুরায় উপজেলা বিএনপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা...

মনপুরায় উপজেলা বিএনপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা। 

মো: বনি আমিন মনপুরা(ভোলা)নিজস্ব প্রতিনিধি
ভোলার মনপুরায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ভোলা-০৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাবেক সাংসদ নাজিম উদ্দিন আলম সমর্থকদের মাঝে ঐক্যের প্রত্যয়ে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।
১৯৭৫ সালের এই দিনে আধিপত্যবাদী চক্রের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় বুকে নিয়ে সিপাহী-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমেই রক্ষা পায় সদ্য অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
সিপাহী-জনতা ক্যান্টনমেন্টের বন্দিদশা থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক, স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপদ্রষ্টা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার গুরু দায়িত্ব অর্পণ করে। তাই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের এক অনন্য ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত দিন।
১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছিল। হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি উচ্চাভিলাষী দল সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে বন্দি করে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দেশের সাধারণ জনগণ ও সিপাহীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর সর্বমহলে, বিশেষত সিপাহীদের কাছে ছিলেন খুবই জনপ্রিয়। ফলে তারা পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ ও জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়। ৬ নভেম্বর মধ্যরাতে ঘটে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ এক বিপ্লব, যা ইতিহাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে স্থান লাভ করেছে।
নভেম্বর শুক্রবার ভোরে রেডিওতে ভেসে আসে, ‘আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি।’ জেনারেল জিয়া জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ওইদিন রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের নগরী। পথে পথে সিপাহী-জনতা আলিঙ্গন করেছে একে অপরকে।
নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ধ্বনিতে ফেটে পড়েন তারা।
দেশবাসী সেদিন জিয়ার হাতেই তুলে দিয়েছিল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব। ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা স্বকীয়ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চক্রান্তকারীদের খপ্পর থেকে দেশকে উদ্ধার করে ২৫ বছরের গোলামী চুক্তিকে হিমাগারে ফেলে দিয়ে সত্যিকার স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে স্থান করে নেয়।
শুক্রবার (০৭ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় উপজেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে এ উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
পতাকা উত্তোলন শেষে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ডাঃ মোঃ কামাল উদ্দিন। উপজেলা যুবদল’র আহবায়ক মোঃ সামসুদ্দিন মোল্লার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারন সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল খালেক সেলিম মোল্লা, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিম মেম্বার,  সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সহকারি আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স, যুবদলের সাবেক সভাপতি জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী।
এসময় বক্তারা বলেন, “কেন্দ্রিয় বিএনপির মনোনয়ন ঘোষনা মোতাবেক বর্তমানে চরফ্যাশন-মনপুরা (ভোলা-০৪) আসনের অভিভাবক হচ্ছেন কেন্দ্রিয় যুবদল’র সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভাই। তাই দলের আভ্যন্তরিন মনমালিন্য ভুলে বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতিককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। নুরুল ইসলাম নয়নের নের্তৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ঐক্যের প্রত্যয় নিয়ে সবাইকে দলের জন্য কাজ করে যেতে হবে। তাহলেই বিএনপি’র বিজয় সুনিশ্চিৎ হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “বিএনপি দলিয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আলম ও বর্তমান মনোনয়ন প্রাপ্ত নুরুল ইসলাম নয়ন সমর্থকরা কারো ব্যক্তিগত সমর্থক নয়। বরং আমরা সকলে বিএনপির সমর্থক। বিগত স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে যুগপতভাবে আন্দোলন করেছি সেভাবে সকল ভেদাভেদ ভুল ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বিএনপি তথা ধানের শীষ প্রতিককে বিজয়ী করবো ইনশাল্লাহ।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ মোঃ আব্দুর রহিম, যুগ্ন আহবায়ক কামাল উদ্দিন, হাজীর হাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম, সাবেক সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিন মেম্বার, স্বেচ্ছাসেবকদল আহবায়ক মিজানুর রহমান পলাশ, সদস্য সচিব হোসেন হাওলাদার, শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, কৃষকদল সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান, মৎস্যজীবিদল সাধারন সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ব্যাপারী, যুবদল নেতা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান মোল্লা, শফিউল্লাহ বাবুল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহজালাল আল আমীন, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সীমান্ত হেলাল, সাবেক সহসভাপতি মোঃ তুহিন, সাবেক সম্পাদক নুর আলম শামীম প্রমূখ।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments