
মোঃ রাফসান জানি, ভোলা
ভোলার শহরের মাসুমা খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মালিহা আফরিন সিমি (১৬) তার রুমের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বুধবার ( ২৩ এপ্রিল) আনুমানিক রাত ১১ টা ৩০ মিনিটের সময় এ ঘটনা ঘটে। সিমি তার মাকে কাথা সেলাইর কথা বলে পড়তে জান। সিমির মা রাতের খাবারের জন্য ডাকতে গেলে দেখেন সে ফ্যান এর সাথে ঝুলে আছে, চিৎকার করে ডাকাডাকি করলে স্থানীয় জনগণ সহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ভোলা সদর মডেল থানায় নিয়ে আসেন।
সিমির পরিক্ষার দিচ্ছেন ভোলা সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র। সে ৫ টি পরিক্ষা দিয়েছে, তার ধারণা ছিল দুটি পরীক্ষায় সে খারাপ করেছে, ফেল আসবে তাই সেই আত্মহত্যার মতো কাজটি করেছেন। আত্মহত্যা করার আগে সিমি একটি চিরকুট লিখে যান, চিরকুটে যেমনটি লেখা ছিল ” মা বাবা তোমার যোগ্য মেয়ে হতে পারলাম না। তোমরা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছো বিশেষ করে মা আমাকে নিয়ে অনেক কিছু করতে চেয়েছো।কিন্তু আমি তোমাদের স্বপ্ন কোনদিন পূরণ করতে পারব না, আমার গণিত পরীক্ষা ভালো হয় নাই কিন্তু ICT তে আমার পাস এর মার্ক উঠে নাই। এই রেজাল্ট নিয়ে আমি কাউকে মুখ দেখাতে পারবো না। সবাই A+, A,Golden A + পাবে এর মাঝে আমি কি পাসটাও করতে পারবো না?এই জীবন রাখতে পারব না। চোখের পানির জন্য লিখা বারবার ভুল করছি।দয়া করে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও আমি যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে মাফ করে দিও।মা বাবা আমি তোমাদের অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাদের সম্মানের কথা ভেবে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতি তোমাদের সিমি “
মালিহা আফরিন সিমি, ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মুসাকান্দি গ্রামের৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ফরাজির মেয়ে।
সিমির বাবা বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভোলা এর বরাবর লাশ বিনা ময়না তদন্তের জন্য একটি দরখাস্ত করেন।
কারো প্রতি কোন অভিযোগ না থাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বেলাল হোসেন, বিনা ময়না তদন্তে লাশ তার পরিবারের কাছে দেয়ার অনুমতি দেন।
সিমির সহপাঠী ও স্বজনরা জানান, গণিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা খারাপ করায় একটি চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এটা করা তার ঠিক হয়নি,পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলেও পুনরায় আবার পরীক্ষা দিতে পারতো, এমন ভুল যেন কোন পরীক্ষার্থী না করে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন চন্দ্র সরকার জানান, এস এস সি পরীক্ষার্থী মালিয়া আফরিন সিমির দুইটি পরীক্ষা খারাপ হয়, একটি চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেন।পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন এসএসসি পরীক্ষা বা যে কোন পরীক্ষার সময় হলে পরিবার যেন পরীক্ষার্থীকে কোন চাপ প্রয়োগ না করে,অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে পরীক্ষা খারাপ হলে শিক্ষার্থীরা উল্টোপাল্টা সিদ্ধান্ত নেন, যেটার বাস্তব প্রমাণ আজকের সিমি।তিনি সকল পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন পরীক্ষা যদি খারাপ হয় আবার পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া যাবে,কিন্তু জীবন একবার চলে গেলে জীবন আর ফিরে আসবেনা।পাশ ফেল শিক্ষার্থীরাই করে, ফেল করলে ভেঙ্গে পড়ার কিছু নেই, পুনরায় চেষ্টা করো ভালো রেজাল্ট হবে।

