
মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসন দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে একটি চ্যালেঞ্জিং ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত। অতীতের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একাধিকবার শরীক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয় অর্জন করেছে। ফলে এই আসনে জামায়াত–বিএনপি জোটের ভোটব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই চিরচেনা সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। জামায়াতে ইসলামী এবার বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত না হওয়ায় দীর্ঘ সময় পর চট্টগ্রাম–১৫ আসনে বিএনপি এককভাবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন। এই বাস্তবতায় আসনটি বিএনপির জন্য যেমন একটি সুযোগ, তেমনি একটি বড় পরীক্ষাও বটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোট না থাকায় অতীতের কিছু ভোট বিভাজনের আশঙ্কা থাকলেও বিএনপির নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও দীর্ঘদিনের জনভিত্তি এই আসনে এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় বিএনপির তৃণমূল সংগঠন, আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক দলটির জন্য বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই দলের অভ্যন্তরীণ কিছু দুর্বলতার কথাও আলোচনায় আসছে। স্থানীয়ভাবে বিএনপির একাংশের মধ্যে পারস্পরিক অনৈক্য, নেতৃত্বকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব এবং একই দলে থেকেও বিরোধী দলের মতো আচরণের অভিযোগ মাঠপর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, এসব অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যদি নির্বাচনের সময় সক্রিয় থাকে, তাহলে তা বিএনপির ভোট ও সংগঠনিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ বিষয়ে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার একাধিক শীর্ষ স্থানীয় বিএনপি নেতা মনে করছেন, বর্তমান বাস্তবতায় ব্যক্তিগত হিসাব বা অতীতের বিরোধ ভুলে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তাঁদের মতে, যদি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে নাজমুল মোস্তফা আমিনের পক্ষে মাঠে নামেন, তাহলে এই আসনে বিএনপির বিজয় ‘ছিনতাই’ করা কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম–১৫ আসনের নির্বাচন শুধু একজন প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন নয়; এটি বিএনপির একক শক্তি, সাংগঠনিক ঐক্য এবং জোটবিহীন নির্বাচনী সক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সফল হতে পারলে, সেটি শুধু এই আসনেই নয়—জাতীয় রাজনীতিতেও বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

