বাড়িরংপুর বিভাগরংপুর জেলাবদরগঞ্জে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের পৃথক গণমিছিল, দোয়া মাহফিল ও...

বদরগঞ্জে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের পৃথক গণমিছিল, দোয়া মাহফিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মোঃ ইনামুল হক, বদরগঞ্জ(রংপুর)শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপি (জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথকভাবে গণমিছিল, দোয়া মাহফিল ও সমাবেশ আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার  (৫ আগস্ট) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়। চার দলের পৃথক এ আয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জামায়াতে ইসলামী
বিকাল ৫ টার দিকে বদরগঞ্জ জামায়াতে ইসলামী’র কার্যালয় ১২নং রেলঘুমটি  থেকে একটি গণ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার জামায়াতের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান কবির,  সেক্রেটারি মিনহাজুল  ইসলাম, নায়েবে আমীর শাহ্ রোস্তোম আলী, রংপুর সুরা কমিটির সদস্য মাওলানা হান্নান খানসহ  অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, “ফ্যাসিস্ট আ.লীগ সরকার জনগণের অধিকার হরণ করছে, বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণ করছে এবং ভোটের অধিকার হরণ করেছে,অন্যায় ভাবে বিরোধীদলীয় নেতা কর্মিদের বিচারিক কিলিং করেছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীদের অন্যায় ভাবে মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। 
বক্তারা আরও বলেন, বদরগঞ্জে বৈষ্যমবিরোধী আন্দোলনে ৩৬আহত ও দুইজন নিহত হয়ছে, আহত   ও নিহত দের স্মরণ করে তাদের কে যথাযথ মর্যাদা দান ও পরিবারের খোঁজ খবর রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন, বক্তারা সরকার কে যৌক্তিক সংস্কার শেষে দেশে নিরেপক্ষ নির্বাচনের দেওয়ার আহবান জানান। 
সমাবেশ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং এটিম আজহারুল ইসলামের  জন্য  দোয়া করা হয়।
বিএনপি
বিকার ৪ টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার  থেকে একটি গণমিছিল বের করে। মিছিলটি পৌর শহরের  প্রধান  সড়ক ঘুরে পুনরায় শহীদ মিনারে  গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক পরিতোষ চক্রবর্তী, যুগ্ম আহবায়ক গোলাম রসুল বকুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আজিজুল হক যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান সহ উপজেলা ও ইউনিয়ণ বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন   বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাজার হাজার ছাত্র জনতা কে হত্যা করেছে, আমরা এর বিচার চাই,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেশে পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, ফ্যাসিস্টেরা দেশ কে অস্থিতিশীল করার জন্য এখন ষড়যন্ত্র করছে এ বিষয় সকল কে সজাগ থাকতে হবে, জুলাই গনঅভ্যুত্থানের আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের প্রতি নজর ,বক্তারা আরও বলেন  দেশের মানুষ আজ এক ফ্যাসস্টি ও তার দোসদের বিরুদ্ধে  ঐক্যবদ্ধ। জুলাই গনঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের জন্য দোয়া শেষে সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষনা করা হয়।
এনসিপি
দুপুর ৬ টার দিকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (এনসিপি) বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির সমাবেশ শেষ হলে  একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে।
এনসিপির উপজেলা সভাপতি  বলেন, “দেশে আজ গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থার অবসানে প্রয়োজন জনতার ঐক্য।”
তিনি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
আসরের  নামাজের পর বদরগঞ্জ পৌর জিতেন দত্ত মঞ্চে   চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যানারে এক দোয়া ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা শাখার সভাপতি, তিনি বলেন, “ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠাই একমাত্র সমাধান। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা চাই।”
দোয়া মাহফিলে দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং দুর্নীতি ও জুলুমের অবসানের জন্য দোয়া করা হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা
পুরো দিনের কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও বদরগঞ্জ থানা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান  জানান, “কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদা প্রস্তুত ছিল” সেনাবাহিনী সদস্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 
বিশ্লেষণ
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বদরগঞ্জে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি বেশ গতি পেয়েছে। রাজনৈতিক  দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে, যা আগাম রাজনীতিরই অংশ। একইদিনে চারটি দলের কর্মসূচি পালিত হওয়ায় বদরগঞ্জে রাজনীতির উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রাজনীতির স্পন্দন ও গণতান্ত্রিক চর্চার চিত্র
একই দিনে বদরগঞ্জের মতো একটি উপজেলা শহরে চারটি ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক দলের পৃথক পৃথক কর্মসূচি আয়োজন নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। এ ঘটনাটি শুধু রাজনৈতিক উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে—আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে আগ্রহী এবং সক্রিয়।
এই কর্মসূচিগুলো ছিল সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদে সম্পন্ন, যা গণতান্ত্রিক পরিসরে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিতকরণের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। মিছিল, সমাবেশ, বক্তব্য ও দোয়া মাহফিল—এসব আয়োজনের মাধ্যমে দলগুলো নিজেদের নীতিমালা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনীতিতে মতের পার্থক্য থাকলেও যদি তা গণতান্ত্রিক পন্থায় এবং সহিংসতামুক্তভাবে প্রকাশ পায়, তবেই একটি সুশাসন ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। বদরগঞ্জের এই দিনব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো তেমনই একটি বার্তা দেয়—এই ভূখণ্ডে এখনো গণতন্ত্রের শিকড় মজবুত রয়েছে।
বদরগঞ্জের ঘটনাপ্রবাহ জাতীয় পর্যায়েও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়—যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পরস্পরের কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ না করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments