বাড়িখুলনা বিভাগখুলনা জেলাফুলতলায় "বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ" ঠাকুরের ১৬৪ তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা ১৪৩২ উৎযাপন।

ফুলতলায় “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ” ঠাকুরের ১৬৪ তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা ১৪৩২ উৎযাপন।

মো: নাসিরুল ইসলাম, ফুলতলা(খুলনা)বিশেষ প্রতিনিধি

৮মে,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা ১৪৩২ উৎযাপন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা ১৪৩২ উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। ২৫ বৈশাখ থেকে ২৭ বৈশাখ পর্যন্ত চলবে এই স্মরণীয় উৎসব, যেখানে কবিগুরুর সাহিত্য, সঙ্গীত ও মানবতাবাদী দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।স্মৃতির অতলে ভেসে থাকা দক্ষিণডিহি, যেখানে কবির পারিবারিক শেকড়, সেখানে প্রতিবছরই এই আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনায় যোগ করে এক নতুন মাত্রা। কবিগুরুর জন্মদিন শুধু একটি স্মৃতিচারণ নয়, বরং তা এক নবজাগরণের উৎস, যেখানে মানবতা, সৌন্দর্য ও সাহিত্যের মিলন ঘটে হৃদয়ের গভীরে।এই মহতি আয়োজনে কবিপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দক্ষিণডিহি। আবহমান বাংলার শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় এই উৎসব হয়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম খুঁজে পায় অনুপ্রেরণার দীপ্ত আলো।খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে এই উৎসবে অংশগ্রহণের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কবিগুরুর জন্মদিনে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে কবি প্রেমিরা যেন ফিরে পাই আত্মার সঙ্গে আত্মার মিলনের সেই চিরন্তন অনুভব।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “স্মৃতিধন্য শ্বশুরবাড়ি” দক্ষিণডিহিতে দীর্ঘদিনেও পূর্নতা পায়নি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স। প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এ প্রকল্পের উন্নয়নকাজ। ফলে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় দেশ-বিদেশী দর্শনার্থীদের।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন খুলনা জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি অবৈধ দখলমুক্ত করেন। স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ার পর সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০০ সালের ৮ আগষ্ট বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে। পরে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর দক্ষিণডিহিতে পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র কমপ্লেক্ম নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪৯ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দেয়। মন্ত্রণালয় এ বাবদ ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ওই টাকা দিয়ে ২০১২ সালের মাঝামাঝি ভবন সংস্কার, একপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া ও অন্যান্য কাজ শেষ করে। এর আগে দ্বিতল ভবনের সামনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়। এছাড়া সেই পুরানো সফেদা তলায় নির্মিত হয়েছিল মৃণালিনী মঞ্চ।
বিশ্বকবির স্মৃতিধন্য শ্বশুরবাড়ির ভবন ঘিরে রবীন্দ্রনাথের কর্মময় জীবনের উপর সংগ্রহশালা কাম লাইব্রেরি, অডিটোরিয়ামসহ রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র, মানসম্মত রেষ্টহাউস নির্মাণের দাবি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এখনও উপেক্ষিত রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, পিকনিক স্পট নির্মাণ, রবীন্দ্র মূল ভবনের ৩টি রাস্তা প্রশস্তকরণের দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বর্তমানে দৃশ্যমান কাজের মধ্যে শুধুমাত্র সীমানা প্রাচীর, মূল ভবনের সংস্কার ও রঙের কাজ, নিচতলায় অপূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরী, সংগ্রহশালা ও দর্শনার্থীদের অবসর যাপনের জন্য ছাউনী তৈরী ও টয়লেট নির্মিত হয়েছে।দক্ষিণডিহিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুড়বাড়ী ২০১৫ সালের ১০ মে ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments