
স্বপন কুমার নাথ – স্টাফ রিপোর্টার চট্রগ্রাম
সীতাকুন্ড উপজেলার ০৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কালাচাঁদের বাড়ীর (দঃ মুরাদপুর নাথ পাড়া) বাবুল দেব নাথ প্রকাশ (বাবুল চৌধুরীর) বড় ছেলে নয়ন দেব নাথ মঙ্গলবার সকালে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ঘরে ফিরেনি। ০২ দিন যাবৎ তার বাবা, মা সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোন প্রকার সন্ধান না পেয়ে গতকাল সীতাকুণ্ড মডেল থানায় জিডি করেন। আজ সকালে লোকজন গ্রামের মুক্তার পুকুর এর পশ্চিম পাড়ে গাছের সাথে তার লাশ ঝুলতে দেখে এলাকায় সোরগোল শুরু হয়ে যায়। ইতিমধ্যে সীতাকুন্ড মডেল থানার একটি টিম গিয়ে, উপস্থিত লোকজনের সামনে সুরত হাল রিপোর্ট তৈরী সহ লাশ থানায় নিয়ে আসে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের ব্যবস্হা নিচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাবুল নাথ এর ০২ ছেলে ছিলো। এখন থেকে প্রায় ৮/১০ বছর আগে ছোট ছেলে কারেন্টে ধরে মারা যায়। বড় ছেলে নয়ন সীতাকুন্ড বাজারে প্রীতি এন্টারপ্রাইজে সেলস ম্যানের কাজ করতো। প্রতিদিন সকাল ৮ টায় বের হয়ে রাত ১১টায় বাসায় ফিরতো। গত সোমবার রাতে হঠাৎ আদরের নয়ন তার মায়ের কাছে দুই / আড়াই লাখ টাকা চেয়ে বসে। নানা ভাবে জিজ্ঞাসা করার পর ও টাকার প্রয়োজনের কথা মাকে বলেনি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে যথারীতি নয়ন কাজে বের হয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় মাকে বলে,মা একটি ভালো কাজে যাচ্ছি। আমার জন্য আশীর্বাদ করিও।
এরপর থেকে নয়ন আর ফিরেনি। তার শরীরে প্রচন্ড আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুখমন্ডল আঘাতের কারনে থেঁতলে গেছে। হাতের কনুই ফুলে গেছে। লাশ ফুলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা নয়ন কে মঙ্গলবার কোন এক সময় দূর্বৃত্তরা হত্যা করে বস্তুা বন্দী করে রেখেছিল। কাল রাতে অন্ততঃ ০২ দিন পর লাশ এনে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ধরনের ন্যাক্কার জনক ও জখন্যতম ঘটনা অত্র এলাকায় ইতিপূর্বে আর দেখেনি বলে প্রায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ মোঃ এনাম সহ উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেছেন এবং উক্ত ঘটনার জন্য ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
মৃত নয়নের অসহায় বাবা দিন মজুর। হতভাগ্য মাও সংসারের কাজের ফাঁকে অন্যের কাজ করেন। আজ একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা বাবা দু” জনই শোকে পাথর হয়ে গেছে এবং সকাল থেকে অজ্ঞান ও প্রায় মৃত অবস্থায় আছে। পুরো এলাকায় শোকের বাতাস বইছে। অনেকেই বর্তমান আইন শৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। এ ছাড়া এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কেউ কেউ আবার ভয়ে বাকরূদ্ধ অবস্থায় আছে। কেউ কেউ মন্তব্য করছেন পাওনাদার অথবা চাঁদাবাজেরা টাকার জন্য নিরীহ নয়নকে হত্যা করেছে। সমাজের অভিবাবক ও উপদেষ্টাদের দাবি, এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

