
ফারুক আহমেদ, জামালপুর সদর নিজস্ব প্রতিনিধি
জামালপুর–টাঙ্গাইল মহাসড়কের দিগপাইত ইপিজেড এলাকায় অটোরিকশা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—সরিষাবাড়ী উপজেলার আরিফা আক্তার (২২), একই উপজেলার সামছ উদ্দিনের মেয়ে মাষ্টার্স পরীক্ষার্থী সুমাইয়া সিথি (২২), অটোচালক সানাকৈর এলাকার হায়দার আলীর পুত্র রাশেদুজ্জামান ওরফে রাশেদ (২২), এবং জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে কৃষক চাঁন মিয়া (৬২)।
জানা যায়, মেয়ে ২ জন সরকারি আশিক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থী তারা কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিল।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামালপুরগামী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি কভার ভ্যান ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৩ জন মারা যান। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘাতক ট্রাকটিকে দুর্ঘটনার প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে দিগপাইত বাজার এলাকা থেকে আটক করে স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় আরও এক শিশুসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
খবর পেয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইপিজেড মেনগেট এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিড ব্রেকার বা গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকায় প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা আরও জানান, দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ও অভিজ্ঞতাহীন অটোরিকশা চালকদের বেপরোয়া চলাচলে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব ও নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ মফিজুল ইসলাম। তাঁরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

