
ফারুক আহমেদ,জামালপুর সদর নিজস্ব প্রতিনিধি
জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়ন ও মহাদান ইউনিয়নে ইটভাটার মাটিবাহী ট্রাক এখন এলাকার মানুষের জন্য নতুন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়নের গোগীনাথপুর, ছোনটিয়া, ছোনটিয়া মোড় এলাকায় ৬টি এবং মহাদানের রঘুনাথপুর গ্রামে আরও ৪টি—মোট ১০টি ইটভাটা চালু থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মাটিবাহী ট্রাক ছোট ছোট গ্রামীণ রাস্তায় চলাচল করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে শিশু, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, গরু-ছাগলসহ পথচারীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে চলাফেরা করতে বাধ্য হচ্ছে। সংকীর্ণ সিঙ্গেল রাস্তায় অতিরিক্ত গতিতে ট্রাক চলার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
এছাড়া কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং গ্রামের পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। রাস্তার পাশের বাড়িগুলো ধুলাবালিতে ঢেকে যাচ্ছে, ফলে ঠান্ডাজনিত রোগসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন গ্রামবাসী।
স্থানীয়রা জানান, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচলের স্বার্থে এডিবির প্রকল্পে নির্মিত ইটের সলিং করা রাস্তাগুলো অতিরিক্ত ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারের কোটি টাকার উন্নয়নকাজ কয়েক বছরের মধ্যেই টিকে থাকার কথা থাকলেও মাটিবাহী ট্রাকের চাপে তা এক বছরেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামবাসীর দাবি, বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম শেষ হওয়ায় ফাঁকা জমির উপর দিয়েই ট্রাকগুলো চালানো উচিত ছিল। তাহলে রাস্তা যেমন রক্ষা পেত, মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হতো। কিন্তু সম্প্রতি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক নতুন রাস্তা ব্যবহার শুরু করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এতে রাস্তার ইট ভেঙে যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও ইটভাটা মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান,
“সরকার কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা বানায়, আর কয়েকটি ইটভাটার ট্রাক সব নষ্ট করে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে রাস্তা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করে গ্রামবাসী সতর্ক করেছেন—প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এলাকাবাসী জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসনসহ সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

