বাড়িরংপুর বিভাগনীলফামারী জেলাজলঢাকায় তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপণে...

জলঢাকায় তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

মোঃ লাল মিয়া (জাহিদ), নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

নীলফামারীর জলঢাকায় তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশাকে উপক্ষো করে জমি তৈরি ও বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন জলঢাকা উপজেলাসহ বাকি ১১টি ইউনিয়নের কৃষকরা। তবে এ বছরে অর্থ সংকট আর খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে কৃষকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকুলে  থাকলে এবার তারা বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা তাদের।

তবে অধিকাংশ জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জমি চাষ করা হচ্ছে। লাঙ্গলের চাষে জমি প্রস্তুত করার দৃশ্য আর সেভাবে দেখা যায় না‌। বীজতলা তৈরি ও জমিতে রোপণের জন্য ধানের চারা উত্তোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। তবে সারা দেশে ধানের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান আবাদ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।  বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যায় বোরো রোপণ করছেন চাষিরা। পুরোদমে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে। অন্যান্য বছরে এই চাষাবাদের সময় কৃষকের মুখ হাসি উজ্জল দেখা গেলেও এ বছর তাদের চোখমুখে দুঃখের ছাপ। হাল, সার—বীজ, বিদ্যুত, ডিজেল ও শ্রমিকসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর ধান রোপণে অতিরিক্ত খরচে চরম হিমসিম খাচ্ছেন তারা। চাষাবাদের খরচ জোগাতে অনেকেই ঋণকে বেছে নিয়েছেন। সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন দরিদ্র কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে বীজতলা তৈরির পর কুয়াশায় কিছু চারা নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে বিদ্যুতের দামও। বর্তমানে প্রতিবস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা, এমওপি ১ হাজার টাকা, দস্তা প্রতিকেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এর আগে প্রতিকেজি হাইব্রিড জাতের বীজ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায় কিনেছেন কৃষকরা। এছাড়া রোপণের সময় শ্রমিকের মজুরী ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। তবে কাটা—মাড়াইয়ের সময় শ্রমিক সংকটে দেখা দিলে তাদের মজুরী গুণতে হবে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর জমিতে তারা বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করছেন।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জলঢাকা উপজেলায় ২১ হাজার ৩০৫ হেক্টর, গোলমুন্ডায় ৮ হাজার ৩০৪, নবাবগঞ্জ  ১৪ হাজার ৭০৪, মীরগঞ্জে ১৪ হাজার ৪০৮, শিমুলবাড়িতে ১১ হাজার ৮০৯, ধর্মপাল ৩১ হাজার ১০৫ খুটামারায় ১২ হাজার ১০৭, কৈমারী, শৌলমারী ও নেকবক্তে ৪২ হাজার ৩০৪ এবং উপজেলায় পৌর শহরে ২৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments