
ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও হবিগঞ্জের লস্করপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আখাউড়ায় তিন ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি ও অন্তত ৩২টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধ ফের ভেঙে লস্করপুরের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসল, শাকসবজি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : আখাউড়ায় মোগড়া, দক্ষিণ ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন জাজিরপুল খাল দিয়ে পানি প্রবেশ করে কালিকাপুর, কেন্দুয়াই, রহিমপুর ও রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আখাউড়া স্থলবন্দরের বিপরীতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের কয়েকটি অফিস, হোটেল ও দোকানেও পানি ঢুকেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, প্রায় ২৫০ হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে।
দ্রুত পানি নেমে গেলে ফসলের ক্ষতি কম হবে। ইউএনও তাপসী রাবেয়া জানান, ৩২টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। সীমান্তবর্তী স্কুলগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ত্রাণও মজুত রয়েছে।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নে গত রবিবার খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙে চরহামুয়া, লস্করপুর, সুঘর, বনগাঁও, বনদক্ষিণ ও যমুনাবাদসহ অন্তত ১৫টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে।
তলিয়ে যায় ফসলি জমি, সবজি বাগান ও গ্রামের সড়ক। ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কেও পানি ওঠায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গত ৯ জুলাই একই বাঁধ ভেঙে ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হলেও ৪৩ দিনেও তা শেষ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণেই বাঁধটি ফের ভেঙেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, ১২৫ হেক্টর আউশ ধান, ২২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা ও ২৫ হেক্টর শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১ হাজার কৃষকও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পানি কমে গেলে দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

