
মনোহরদী(নরসিংদী)নিজস্ব প্রতিনিধি
নরসিংদী জেলাধীন মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নস্থ বাঘিবাড়ী গ্রামটি বিগত সময়ে একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়ে থাকলেও বর্তমানে গ্রামটি নিয়ে যেন জল্পনা কল্পনার শেষ হচ্ছে না! বিগত সময়ে এই গ্রামটিতে ছিল আদর্শ মানুষের বিচরণ আর তাঁদের হাত ধরেই গ্রামটি একটি শিক্ষা, সাম্যতা ও ন্যায্যতা তথা আদর্শ গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
কিন্তুু বর্তমানে গুটিকয়েক মানসিক বিকারগস্ত মানুষের নিকৃষ্ট চিন্তা ভাবনা এবং অপরাধ মূলক মননশীলতায় গ্রামটি একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে!
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাঘিবাড়ী গ্রামের মৃত সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন এর দুই ছেলে সৈয়দ আকরাম হোসেন (৫২) ও সৈয়দ আসলাম উদ্দিন (৫০) এর বিরুদ্ধে মানব পাচার, চুরি, চুরির উদ্দেশ্যে হত্যা, ছিনতাই, জুয়া ও জুয়ার আসর পরিচালনা সহ নানান অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত খোজ নিতে গিয়ে জানা যায় যে, সৈয়দ আকরাম হোসেনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের শুরু বহু-বছর আগে। জিবীকার তাগিদে প্রবাসে পারি দেওয়ার পর খুব অল্প দিনে মানব পাচারকারীদের সাথে তার সখ্যতার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সে একক ভাবে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নিরীহ মানুষদের অভাব ও দৈনতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ভাবে ফুসলিয়ে বিদেশে অবৈধ ভাবে পাচার করা শুরু করে। একসময় সে মানব পাচারের কাজকে প্রসারিত করার লক্ষে দেশে ফিরে আসে এবং তার ছোট ভাই সৈয়দ আসলাম উদ্দিনের মালিকানায় ঢাকার মতিঝিলে (এবসুলেট এমবিশন ট্রাভেল সার্ভিসেস) একটি ট্রাভেল এজেন্সি তৈরি করে। পরবর্তীতে সৈয়দ আকরাম হোসেন তার অনুসারীদের (ইয়াকিন, রাশিদা, বাবুল, সাব্বির, বাবুলের স্ত্রী চম্পা সহ আরও বেশ-কয়েকজন)
নিয়ে মনোহরদী ও তার আশেপাশের উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার নিরীহ মানুষদের ভূলিয়ে ভালিয়ে তার ভাই সৈয়দ আসলাম উদ্দিন ও তার ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বৃহত আকারে বিদেশে অবৈধ পাচার করা শুরু করে এবং তারা দুই ভাই টাকার কুমিরে পরিনত হয়। পরবর্তীতে আধুনিকতার ছোয়ায় তাদের এই অবৈধ মানব পাচার ব্যবসায় ভাটা পড়লেও টাকার নেশায় থামেনি তাদের অপরাধ মূলক অপকর্ম! বরঞ্চ কাচা টাকা কামানোর নেশায় বুদ হয়ে আকরাম তার অনুসারীদের নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ মূলক অপকর্মের নতুন কর্ম-যজ্ঞ শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় রয়েছে চুরি, চুরির উদ্দেশ্যে হত্যা, গুম, ছিনতাই, মাদক, জুয়া, জুয়ার আসর পরিচালনা সহ নানান অপরাধ। ভাই আসলাম এর আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অনুসারীদের সহযোগিতায় নানান অপরাধ অপকর্মে জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে আকরামের পরিবার বিরোধিতা করায় আকরামের হাতে শারীরিক, মানসিক ও পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায় নি তার স্ত্রী সন্তানেরা! একপর্যায়ে এসব বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী সন্তান আইনের দ্বারস্থ হলেও আকরামের ভাই তথা তার সকল অন্যায়-অপকর্মের মূল আশ্রয়দাতা সৈয়দ আসলাম উদ্দিন টাকার বিনিময়ে অসাধু প্রশাসন ও সমাজপতিদের মাধ্যমে সব কিছু ধামাচাপা দিয়ে দেয়। ভাইয়ের সকল অপকর্মের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত থাকার কারণে একসময় আসলামের পরিবার সাথেও তার বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তাদের অপকর্মের দরুন দুই ভাই (আকরাম-আসলাম) পরিবার ও সমাজ (অনুসারী ও গুণগ্রাহী ব্যতীত) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। পরবর্তীতে সৈয়দ আকরাম হোসেন তার ভাই সৈয়দ আসলামের আশ্রয়-প্রস্রয়, সহযোগিতা ও নির্দেশনায় তার সহযোগীদের (ইয়াকিন, রাশিদা, বাবুল, সাব্বির , বাবুলের স্ত্রী চম্পা সহ আরও বেশ-কয়েকজন) নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ সিন্ডিকেট তৈরী করে। সৈয়দ আকরাম হোসেন তার সহযোগীদের (ইয়াকিন, রাশিদা, বাবুল, সাব্বির, বাবুলের স্ত্রী চম্পা সহ আরও বেশ-কয়েকজন) নিয়ে মনোহরদী উপজেলা সহ আশেপাশের উপজেলা থেকে গরু, ছাগল ও অটোরিকশা চুরি ও চুরির উদ্দেশ্যে হত্যাকান্ড ঘটানোর জঘন্য অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরে। তাছারাও সুদি কারবার, জুয়া, জুয়ার আসর পরিচালনা, মাদক সেবন, মাদক চোরাচালান ও কেনাবেচার মত অপরাধ মূলক কাজের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমান পাওয়া যায়। সৈয়দ আকরাম হোসেনের সহযোগিদের (ইয়াকিন, রাশিদা, বাবুল, সাব্বির, বাবুলের স্ত্রী চম্পা সহ আরও বেশ-কয়েকজন) মাধ্যমে সংগঠিত সকল অপকর্ম যখনই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি গোচর হয় তখনই সৈয়দ আকরাম হোসেন ও তার ভাই সৈয়দ আসলাম উদ্দিন নিজ উদ্যোগে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে লিয়াজো করে এসকল অন্যায়, অপরাধ গুলো ধামাচাপা দিয়ে দেয়।
এসব বিষয় প্রাথমিক অবস্থায় শিক্ষিত সমাজের সুশীল শ্রেণির মানুষের দৃষ্টি গোচর না হলেও গত ২২ ই জানুয়ারি নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলাধীন বিন্নাবাইদ ইউনিয়নয়স্থ বিন্নাবাইদ বিএম কলেজ সংলগ্ন রাস্তার পাশে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ পাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া তদন্তে অটোরিকশা চুরি ও চুরির উদ্দেশ্যে হত্যার সংশ্লিষ্টতায় বাঘিবাড়ী গ্রামের ইয়াকিন মিয়া সস্ত্রীক পিবিআই নরসিংদী কতৃক গ্রেফতার ও গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে সৈয়দ আকরাম হোসেন ও সৈয়দ আসলাম উদ্দিন সহ তাদের সহযোগীদের (বাবুল, সাব্বির, বাবুলের স্ত্রী চম্পা সহ আরও বেশ-কয়েকজন) বেশ কিছু কর্মকান্ড সাধারণ মানুষ সহ শিক্ষিত সমাজের সুশীল শ্রেণির মানুষের মনে সন্দেহের জন্ম দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া একাধিক অডিও এবং ভিডিও রেকর্ড সহ সৈয়দ আকরাম হোসেনের পলাতক থাকার বিষয়টি জনমনে জন্ম হওয়া সন্দেহের বিষয়টি বাস্তবিকতায় রূপ নেয়। তাছারাও ঘটনা পরবর্তী সময়ে সৈয়দ আকরাম হোসেনের কল লিস্ট ও লোকেশন/অবস্থান বিশ্লেষণের মাধ্যমে সৈয়দ আকরাম হোসেনের সকল অপকর্মের সহযোগীদের মধ্যে বাবুল, সাব্বির, বাবুলের স্ত্রী চম্পা সহ আরও বেশ-কয়েকজনের সাথে আকস্মিক ও সন্দেহাতীত যোগাযোগ তাদের এসব কর্মকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি পরিষ্কার করে।
অডিও এবং ভিডিও রেকর্ড গুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে বুঝা যায় যে, সৈয়দ আকরাম হোসেন তার সহযোগীদের মধ্যে বাঘিবাড়ী গ্রাম থেকে পিবিআই নরসিংদী কতৃক গ্রেফতারকৃত ইয়াকিন-রাশিদার দ্বিতীয় (ছেলে) সন্তান সৈয়দ রাহিম খান (১৪) কে ব্রেইন ওয়াশ/মগজধোলাই এর মাধ্যমে নানান অপকর্মে জড়ানোর অপচেষ্টা চালায় এবং এক পর্যায়ে পবিত্র কোরআনের শপথ সহ বিভিন্ন উপায়ে শপথ-কসম করানোর মাধ্যমে একই গ্রামের নীরীহ কৃষক মোঃ জিতন এর ছেলে জাহিদ(১৯) কে ১২০০০/- (বার হাজার টাকায়) ও নগদ ৩০০/- (তিনশত) টাকার চুক্তিতে মনোহরদী উপজেলার এরিয়ার বাইরে যেমন, পোড়াদিয়া ব্রিজ, বেলাব ব্রিজ, কাপাসিয়া ব্রিজ, চিনাদি বিল ও বাইনাদি ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের চোখ এরিয়ে হত্যার কন্ট্রাক দেয় এবং পরবর্তীতে সকল ভাবে নিরাপত্তা দানের পাশাপাশি এই কাজ সঠিক ভাবে শেষ করতে পারলে এই ধরনের আরও কাজ করানো সহ তার মা,-বাবা কে জামিনে মুক্ত করিয়ে দিবে এই মর্মে আশ্বাস প্রদান করে। (চলবে,,,)

