
মো:নাজমুল হোসেন(জিয়ানগর) পিরোজপুর নিজস্ব প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা বিএনপি’র সংগ্রামী সাবেক সভাপতি, যিনি গোটা পিরোজপুরে বিএনপি লতিফ হিসেবে সমাধিক পরিচিত। আব্দুল লতিফ হাওলাদার (৬৮) ২৪ নভেম্বর রাত ১২:১০ মিনিটে ফুসফুসে সমস্যার কারণে ঢাকা মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা যায়, জনাব আব্দুল লতিফ হাওলাদার বিএনপি এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর যাবত তিনি উপজেলা বিএনপির নানাবিধ কর্মকান্ডে কান্ডারী হিসাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন এবং একটানা তিনি প্রায় ৪০ বছর উপজেলা বিএনপির সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক বাধা-বিপত্তি, ঝড়-ঝন্ডা, নানা বাঁধার মধ্যেও কোন সম্মেলনই তাকে সভাপতির পদ থেকে দূরে সরাতে পারেনি। তার অন্যতম কারণ হলো তিনি দীর্ঘদিন যাবত দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন। তার হাত ধরে অনেক নেতা কর্মী বিএনপির রাজনীতিতে এসেছেন। তাইতো বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে গুরুর ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের আমলে তিনি বহুবার দীর্ঘ সময় ধরে জেল খেটেছেন। কারণ তাকে ঘায়েল করতে পারলেই বিরোধী দল চাঙ্গা হতে পারে।গত এক বছর পূর্বে অসুস্থতার কারণে তিনি দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন। সর্বশেষ তিনি ০৫আগস্ট /২৪ এর দুই সপ্তাহ পরে জামিনে বের হন। করোনা কালীন সময়ে তিনি করোণায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবত ফুসফুস জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন ও চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত ১৮ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবার তাকে মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করে। টানা ০৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরে তিনি আই সি ইউ তে থাকা অবস্থায় রবিবার রাত ১২.১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই অপরিসীম অবদানের জন্য উপজেলাবাসী তার স্ত্রীকে দুইবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। তার অসুস্থতার খবর শুনে ও ফেসবুকে নানা ধরনের পোস্ট দেখে উপজেলা বাসী দলীয় কার্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নানা ধরনের দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তার প্রাণ ভিক্ষার জন্য আল্লাহ নিকট ফরিয়াদ করে। তাকে দেখার জন্য অনেক নেতা কর্মীরা হাসপাতালেও ভিড় জমায়। তার মৃত্যুর খবর শুনে হাজার হাজার নেতা কর্মী ও এলাকাবাসী তাকে দেখার জন্য বাড়িতে ছুটে আসে ও কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার জানাজা নামাজ দুপুর ২.০টায় জিয়ানগর শহীদ ফজলুল হক ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। তাকে পারিবারিক কবরস্থানের সমাহিত করা হয়। তার এই অবদান উপজেলাবাসী আজীবন স্মরণ রাখবে। জনাব আব্দুল লতিফ হাওলাদারের জন্য তার পরিবার এলাকাবাসী তথা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। তিনি এক মেয়ে, তিন ছেলে, স্ত্রী ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

