
মোঃ জিয়ান,মোহনগঞ্জ, (নেত্রকোনা)নিজস্ব প্রতিনিধি
১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিএনপি প্রতিষ্ঠায় যার অন্যতম অবদান রয়েছে তিনি ভাষা সৈনিক আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টার।
আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টার মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর সৎ ও আদর্শের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি জাগদল (বর্তমান বিএনপি) এর উপজেলা সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেন। তখন ন্যাপ ( হক, তোহা ) এর সদস্য ছিলেন।
তিনি ১৯৩১ সালে ২৬শে মার্চ উপজেলার নৌহাল গ্রামে এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে পিতা আব্দুল আজিজ ও মাতা খুদেজা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫৩ সালে মোহনগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও আনন্দ মোহন কলেজ (ময়মনসিংহ) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে লাইব্রেরীয়ান ইন সাইন্স কোর্চ সম্পর্ণ করেন। তিনি মোহনগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে লাইব্রেরীয়ান হিসেবে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে অত্র বিদ্যালয়ে বাংলা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যার অবদান হাওরাঞ্চলে শ্মরনীয় হয়ে আছে। তিনি শতাধিক যাত্রা ও নাটকের পরিচালনা করেন। ক্রীড়া জগতে কোচ হিসেবে রয়েছে অবদান। এবং মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমেটির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন নবম শ্রেণির ছাত্র ও মোহনগঞ্জ পাইলট স্কুল ক্যাপ্টেন। তখন কার সময়ে বাংলা ভাষার দাবিতে যে আন্দোলন হয়ে ছিলো সে আন্দোলনের বিভিন্ন মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি। এবং তিনি জীবতদশায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের নিকট হইতে ভাষা সৈনিক হিসেবে পেয়েছেন সম্মাননা।
২০১৩ সালে ১৯ শে অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত্যুকালিন সময়ে স্ত্রী ও ৫ পুত্র- ২ কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। এর মধ্যে তার বড় পুত্র সেলিম কার্ণায়েন মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯ অক্টোবর শনিবার মরহুম আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টারের ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকী জাক জমক ভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা বিএনপি। এতে প্রথমে কালো ব্যাজ ধারন, শোক র্যালি, কবর জিয়ারত,দোয়া-মাহফিল ও সর্বশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

